বর্ধমান রেলের খাদ্যদ্রব্য পরিবহনের এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা

Subscribe Us

বর্ধমান রেলের খাদ্যদ্রব্য পরিবহনের এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা



পূর্ব বর্ধমান:- লকডাউনে জেরে ব্যবসার অবস্থা খারাপ। রেল চলাচল প্রায় বন্ধ। এর মধ্যে খুশির খবর বর্ধমান থেকে  ৫১০ টন চাল রওয়ানা করানো হল ত্রিপুরার উদ্দেশ্য। এই চালগুলির ত্রিপুরা রাজ্যে ভাল চাহিদা রয়েছে।রেলের পক্ষ থেকে পরিবহন খরচে ছাড় দেওয়া হয়েছে। এতে দুদিক থেকেই লাভবান হবেন। একদিকে খরচ কমবে।অন্যদিকে বাইরে চাল গেলে তাদের লাভ বাড়বে।চাহিদাও তৈরি হবে।  রেল আধিকারিকরা জানান,পূর্ব বর্ধমান রেল বিভাগের এটি স্মরণীয় ও আনন্দের দিন। শুক্রবার বর্ধমান রেলওয়ে পরিবহণ দফতরের পক্ষ থেকে এই  চাল পরিবহন শুরু হলো। এদিন বর্ধমান থেকে ৫১০ টন চাল ত্রিপুরার আগরতলার উদ্দেশ্যে রওনা দিল ।এদিন বর্ধমান রেল পরিবহন বিভাগের পক্ষ থেকে চাল ব্যবসায়ীদের  সংবর্ধনাও প্রদান করা হয় ।চাল ব্যবসায়ীরা জানাচ্ছেন,তাদের চাল আজ ওয়াগনে লোড করা হলো ।  বর্ধমান রেলের পণ্য পরিবহনের নতুন মাধ্যমের সূচনা হলো এদিন। বর্ধমান রেলের পরিবহন দপ্তরের আধিকারিক বাল যোগেশ্বর প্রসাদ জানাচ্ছেন, লকডাউন এর সময় বিভিন্ন মিলারদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে এই চাল পরিবহন করা সম্ভব হল। তিনি আরো বলেন, রপ্তানির বেশকিছু নিয়ম শিথিল করে ব্যবসায়ীদের উৎসাহ দিয়ে এই কাজ করা সম্ভব হয়। তিনি আশা করছেন,আগামী দিনে এই ভাবে ব্যবসায়ীরা অনেক সুবিধা পাবেন। বর্ধমান রেলের খাদ্যদ্রব্য পরিবহনের এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হলো। 



এদিন বর্ধমান রেলের স্টেশন ম্যানেজার স্বপন অধিকারী জানান, এইভাবে খাদ্যদ্রব্য রপ্তানি করা হলে রেলের আয় বাড়বে। সাথে সাথে ব্যবসায়ীরাও অনেক সুবিধা পাবেন। তাদের এতদিন সড়ক পথে সমস্ত খাদ্যদ্রব্য রপ্তানি করতে হত। সে ক্ষেত্রে তারা অনেকটা অসুবিধার মধ্যে পড়তেন এবং অনেক বেশি সময় লাগত।তাদের খরচ বেশি লাগত। রেলপথের  মাধ্যমে তাদের অনেক সুবিধা হবে। বর্ধমান রেলের বুকিং সুপারভাইজার অনিল কুমার সিং জানাচ্ছেন, আজ এইভাবে চাল পাঠাতে পেরে বেশ ভালো লাগছে। আজকে ব্যবসায়ীদেরকে আমরা অভিনন্দন জানালাম। সুরক্ষিতভাবে  সামগ্রী গন্তব্যে পৌঁছে যাবে বলে আশা করি। আগামী দিনে আরো ব্যবসায়ীরা এই সুবিধা পাবেন। চাল ব্যবসায়ী  কুরেশ প্যাটেল জানাচ্ছেন, এতদিন সড়কপথে চাল রপ্তানি করা হত। সে ক্ষেত্রে সাত থেকে দশ দিন সময় লাগত।রেলে পণ্য পরিবহনের মাধ্যমে দুই থেকে তিন দিনের মধ্যে তাদের চাল গন্তব্যে পৌঁছে যাবে ।এক্ষেত্রে তাদের লাভও বেশি  হবে ।এর পাশাপাশি সমস্ত সামগ্রী সুরক্ষিত ভাবে গন্তব্যে পৌঁছে যাবে বলে আশা করছেন তারাও। ব্যবসায়ী তাপস কেস জানান,এদিন পাঁচ রকমের চাল রপ্তানি করা হলো। যার মধ্যে আছে মুড়ির চাল ও ভাতের চাল।এই ভ্যারাইটির চালগুলির ত্রিপুরা রাজ্যের আগরতলায় ভালো চাহিদা আছে। আমরা যদি এই পরীক্ষামূলক রপ্তানিতে সুবিধা পাই ।তাহলে আগামী দিনে আরো অনেক ব্যবসায়ীরা এই ভাবে তাদের চাল ভিন রাজ্যে রপ্তানি করতে পারবেন ।এক্ষেত্রে বর্ধমানের চাল ব্যবসায়ীরা উপকৃত হবে।রপ্তানির ফলে এখানে দাম বাড়বে না এটাও জানান তারা।কারণ বর্ধমানে চালের ফলন হয় প্রচুর।চাষির ফসলের চাহিদাও বাড়বে।

FOLLOW US AT:-





Post a comment

0 Comments