সংবাদমাধ্যমের খবরের জেরে নড়ে চড়ে বসলো পূর্ব বর্ধমান জেলা প্রশাসন

Subscribe Us

সংবাদমাধ্যমের খবরের জেরে নড়ে চড়ে বসলো পূর্ব বর্ধমান জেলা প্রশাসন



রাস্তার কাজ চলতে চলতেই গাড়ির চাকার সঙ্গেই উঠে চলে যাচ্ছে পিচ ও পাথরের আস্তরণ।এমন নিম্নমানের রাস্তা তৈরির ঘটনার প্রতিবাদে পুজোর সময়েই স্বোচ্চার হয়েছিলেন পূর্ব বর্ধমানের জামালপুরের মাঠনশীপুরের বাসিন্দারা।তাঁরা রাস্তা তৈরির কাজ বন্ধ করেদেন।একই সঙ্গে মাঠনশীপুর গ্রামের বাসিন্দারা হুুঁশিয়ারি দেন সরকারী ওয়ার্ক অর্ডার মেনে যথাযথ ভাবে ঠিকাদার সংস্থা রাস্তা তৈরি না করলে তারা রাস্তার  কাজ আর করতে দেবেন না।এই খবর সংবাদমাধ্যমে সম্প্রচার হতেই নড়ে চড়ে বসলো প্রশাসন।
শুরু হয়েছে রাস্তার কাজের মান পরীক্ষা।জামালপুরের বেরুগ্রাম পঞ্চায়েতের গ্রামনশীপুর থেকে রায়নার দেরিয়াপুর পর্যন্ত ৩ কিমি পাকা পিচের  রাস্তা তৈরি হচ্ছে।পূর্ব বর্ধমান জেলাপরিষদের তত্বাবধানে তৈরি হওয়া ওই রাস্তা নিয়ে প্রথম থেকেই বিস্তর অনিয়মের অভিযোগ উঠতে শুরু করে।কাজের মান নিয়ে পুজোর সময়ে ক্ষোভ চরমে  ওঠে।ক্ষুব্ধ মাঠনশীপুর গ্রামের বাসিন্দারা পুজোর সময়ে রাস্তায় কাজ বন্ধ করে দেবার পরেই বৃহস্পতিবার ওই এলাকায় পৌঁছে যান জেলাপরিষদের ইঞ্জিনিয়ার বিভাগের সাত সদস্যের একটি দল।তারা রাস্তার কাজ খতিয়ে দেখেন।রাস্তার বিভিন্ন জায়গা থেকে নমুনা সংগ্রহ করেও তারা নিয়ে যান।
জামালপুর ব্লকের বিডিও শুভঙ্কর মজুমদার বলেন,জেলাপরিষদের তত্তাবধানে “আরআইডিএফ ”প্রকল্পে রাস্তাটি তৈরি হচ্ছে।রাস্তার কাজ নিয়ে যে অভিযোগ ওঠেছে সেই সংক্রান্ত রিপোর্ট জেলা প্রশাসনের কাছে পাঠানো হয়।তার ভিত্তিতেই জেলা পরিষদ রাস্তার কাজের তদন্ত করার জন্যে একটি দল পাঠিয়েছিল বলে শুনেছি।
মাঠনশীপুর গ্রামের বাসিন্দারা বলেন,তিন কিমি পাকা পিচ রাস্তা তৈরির জন্য ২ কোটি ৪০ লক্ষ টাকা জেলাপরিষদ বরাদ্দ করেছে।সেই টাকায় যথেষ্ট ভালো রাস্তা তৈরি হবার কথা থাকলেও বাস্তবে অতীব নিম্নমানের রাস্তা তৈরি হচ্ছে।রাস্তার কাজ চলতে চলতেই গাড়ির চাকার সঙ্গে উঠে চলে যাচ্ছে পিচ ও পাথরের আস্তরণ।এমনকি হাতে করে অাঁচড়ালেও পিচ ও পাথরের আস্তরণ উঠে চলে আসছে।আগে মোরাম রাস্তা তৈরির সময় তাঁরা গ্রামের বাসিন্দারা স্বেচ্ছাশ্রম দিয়েছিলেন।গ্রামে সবার দাবি ছিল ৩ কিমি  পাকা পিচের রাস্তার।সেই দাবি পূরণ হলেও নিম্ন মানের রাস্তা তৈরি হওয়া দেখে এলাকার সকলেই হতাশ হয়েছেন।সেই কারণে পুজোর সময়েই গ্রামবাসীরা বিক্ষোভে ফেটে পড়ে রাস্তার কাজ বন্ধ করে দিয়েছেন।তাঁরা প্রত্যাশা রয়েছে এবার হয়তো রাস্তাটি ভালো ভাবে তৈরি হবে।

Post a Comment

0 Comments

close