এসইউসিআই এর পক্ষ থেকে স্মারকলিপি প্রদান মহকুমার শাসক এর কাছে

Subscribe Us

এসইউসিআই এর পক্ষ থেকে স্মারকলিপি প্রদান মহকুমার শাসক এর কাছে



নিলেশ দাস আসানসোল:- বৃহস্পতিবার সকালে এসইউসিআই এর পক্ষ থেকে গণ-আন্দোলনের কর্মসূচি নেয়া হয়। এসইউসিআই এর পক্ষ থেকে বিভিন্ন দাবি-দাওয়া নিয়ে স্মারকলিপি প্রদান করা হয় মহকুমার শাসক এর কাছে। তাদের দাবি, গোটা দেশের অর্থনীতি চুড়ান্ত বিপর্যস্ত।করোনা ভয়াবহ আক্রমণের মধ্যেই চলছে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের তরফে জনজীবনের উপর অর্থনৈতিক ও অন্যান্য আক্রমণ।সরকারি হিসাব অনুযায়ী ইতিমধ্যেই দেশের ১২ কোটি ১০ লক্ষ মানুষ কর্মহীন হয়ে পড়েছেন।পরিবারপিছু চারজন ধরলে প্রায় ৫০ কোটি মানুষ আজ রােজগার হীন(সূত্র : সি এম আই আই)।চলতি অর্থবর্ষের প্রথম ত্রৈমাসিকে জিডিপি ভয়াবহ ভাবে হ্রাস পেয়েছে।(প্রায় ২৯.৯ শতাংশ,সূত্র : কেন্দ্রীয় পরিসংখ্যান সংস্থা সি এস ও)।এই বিধ্বস্ত তার্থনৈতিক অবস্থায়,করোনা পরিস্থিতির সুযোগে নিয়ে কেন্দ্রে ক্ষমতাসীন বিজেপি সরকার একের পর এক চুড়ান্ত জন বিরোধী নীতি প্রণয়ন করে চলেছে।দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত ক্ষেত্র রেল পরিষেবাকে প্রায় পুরোপুরি বেসরকারিকরণ করার পরিকল্পনা তারা ইতিমধ্যেই দফায় দফায় কার্যকর করছে।তারা ঘােষণা করেছে,১৫১ টি রুটের দূরপাল্লার ট্রেনকে এবং ৫০ টি রেলস্টেশনকে পুঁজিপতিদের হাতে তুলে দেবেন,যার মধ্যে এ রাজ্যের ১৫ টি রুটের দূরপাল্লার ট্রেন রয়েছে।রেলওয়ের ১৭ টি ক্ষেত্র ১০০ % বিলগ্নীকরণের জন্য খুলে দেওয়া হচ্ছে।বেসরকারি(তেজস এক্সপ্রেস)যাতে মসৃণভাবে চলতে পারে তার জন্য সরকারি(গােমতী এক্সপ্রেস)বন্ধকরে দেওয়া হয়েছে।এছাড়াও আরাে প্রায় ১০০ টি ট্রেন বন্ধকরার সিদ্ধান্ত নিয়েছে তারা।সাতটি গুরুত্বপূর্ণ রেল কারখানা কর্পোরেট কোম্পানিতে রূপান্তর করা হবে বলে ঘােষণা করা হয়েছে।রেলের সার্বিক বেসরকারিকরণ সাধারণ মানুষের জীবনে চরম দুর্ভোগ নামিয়ে আনবে।পুঁজিপতিদের বিপুল মুনাফার জন্য টিকিটের দাম লাগামহীনভাবে বৃদ্ধি করা হবে।যা সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাবে। যাত্রী নিরাপত্তার ক্ষেত্রেও কোন সরকারি দায়িত্ব থাকবে না।লক্ষ লক্ষ কর্মচারী ছাঁটাই হবে।



অপরদিকে, বর্তমানে করোনা অতিমারীতে আক্রান্ত গোটা বিশ্বের মানুষ।আমাদের দেশেও এই সংক্রামক ব্যাধি ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে।বর্তমানে সরকারী হিসেব অনুযায়ীই প্রতিদিন আক্রান্তের সংখ্যা এক লক্ষ ছুঁই ছুঁই।এ দেশের কেন্দ্রীয় সরকারের দফায় দফায় অপরিকল্পিত লকডাউন, এই অবস্থার বিন্দুমাত্র উন্নতি ঘটায়নি,সংক্রমণের হার ক্রমাগত বেড়েই চলেছে।প্রায় বিনা চিকিৎসায় হাজার হাজার অসহায় মানুষের মৃত্যুমিছিল আমরা প্রতিদিনই প্রত্যক্ষ করছি।এই অবস্থার উন্নতি সাধনে কার্যকরী পদক্ষেপ নেওয়ার ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় এবং রাজ্য উভয় সরকারই উদাসীন ।এছাড়াও কেন্দ্রীয় সরকার অন্যান্য বহু ক্ষেত্রে আক্রমণ নামিয়ে এনেছে।তারা ব্যাংক বেসরকারীকরণের জন্য পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে,বিভিন্ন চুড়ান্ত স্বৈরাচারী আইন কার্যকর।এই সকল দাবী নিয়ে আসানসোল মহকুমা শাসকের কাছে একটি স্মারকলিপি দেয়া হয়।

Post a Comment

0 Comments

close