একজোট হয়ে প্রতিবাদে নেমে নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে রাস্তা তৈরির কাজ বন্ধ করেদিলেন গ্রামবাসীরা

Subscribe Us

একজোট হয়ে প্রতিবাদে নেমে নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে রাস্তা তৈরির কাজ বন্ধ করেদিলেন গ্রামবাসীরা



আঙুলের আঁচড় দিলেই ওঠে আসছে  সদ্য তৈরি হওয়া  রাস্তার পিচ ও পাথরের অস্তরণ। এমনকি রাস্তার উপর দিয়ে ট্রাক্টর কিংবা বাইক চালিয়ে কেউ গেলেও চাকার সঙ্গে পিচ ও পাথরের আস্তরণ উঠে চলে আসছে।এমন নিম্নমানের রাস্তা তৈরির ঘটনার প্রতিবাদে স্বোচ্চার হলেন পূর্ব বর্ধমানের জামালপুরের মাঠনশীপুর গ্রামের বাসিন্দারা।তারা রাস্তার কাজ বন্ধ করেদেন।গ্রামবাসীরা হুুঁশিয়ারি দিয়েছেন সরকারি ওয়ার্ক অর্ডার মোতাবেক  রাস্তা তৈরি না হলে তাঁরা আর রাস্তা নির্মাণের কাজ শুরু করতে দেবেন না। 
কিছুদিন আগে উত্তরবঙ্গে ভার্চুয়াল প্রশাসনিক বৈঠক থেকে মুখ্যমন্ত্রী জেলার রাস্তার কাজ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন।সেদিন মুখ্যমন্ত্রীর ক্ষোভ প্রকাশ যে অমূলক ছিল না তা কার্যতই প্রমাণ হল জামালপুরের মাঠনশীপুরের ঘটনা। রাস্তার পুণর্গঠন ও সংস্কারের জন্য কিছুদিন ধরে পূর্ব বর্ধমান জেলার বিভিন্ন জায়গায় ঘটা করে ফিতে কাটার হিড়িক পড়ে গিয়েছিল।কিন্তু বাস্তবে জেলার গ্রামীন এলাকায় রাস্তার কাজের মান নিয়ে জনমানসে অসন্তোষ বেড়েই চলেছে বলে মনে করছেন ওয়াকিবহাল মহল।  


জামালপুর ব্লকের বেরুগ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার প্রত্যন্ত গ্রাম মাঠনশীপুর। কৃষি প্রধান এই পঞ্চায়েত এলাকার গ্রামনশীপুর থেকে রায়নার দেরিয়াপুর পর্যন্ত পাকা পিচ রাস্তা তৈরির দাবি দীর্ঘদিন ধরে জানিয়ে আসছিলেন এলাকাবাসিন্দারা। সেই দাবিকে মান্যতা দিয়ে রাস্তার অনুমোদন করে পূর্ব বর্ধমান জেলাপরিষদ। গ্রামবাসীদের দাবি প্রথম থেকেই রাস্তার কাজ হচ্ছে অতিব নিম্ন মানের। সেই কারণেই গ্রামবাসিদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। 
মাঠনশীপুর এলাকার বাসিন্দা হারুণ মল্লিক ,সেখ সামসুল হুদারা বলেন , গ্রামনশীপুর থেকে দেরিয়াপুর পর্যন্ত ৩ কিলোমিটার রাস্তা তৈরির জন্য ২ কোটি ৪০ লক্ষ টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে ।ঘটাকরে আবার এই রাস্তা ‘পথশ্রী ’ প্রকল্পেও তালিকা ভুক্ত করা হয়। কিন্তু প্রথম থেকেই  রাস্তার কাজে অনিয়ম শুরু করে ঠিকাদার সংস্থা । তারা সরকারী ওয়ার্ক অর্ডারও জনসমক্ষে আনতে চায়না ।যে টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে তাতে উন্নত মানের রাস্তা তৈরি হবার কথা থাকলেও রাস্তা হচ্ছে একেবারে নিম্ন মানের। প্রায় বছর দেড়েক আগে রাস্তা তৈরির কাজ শুরু হলেও কাজে কোন গতি নেই। হচ্ছে হবে মানসিকতা  নিয়ে ঠিকাদার সংস্থা রাস্তার কাজ করছে। প্রথম দফার কাজও ঠিকঠাক হচ্ছিল না। এলাকাবাসী প্রতিবাদ করলে পরে সেই কাজ সঠিক ভাবে  হয়। গত তিন দিন হল রাস্তায় পিচ ও পাথরের আস্তরণ দেওয়া শুরু হয়েছে। কিন্তু কাজ চলতে চলতেই সেই পিচ ও পাথরের আস্তরণ উঠে  চলে যাচ্ছে। এমনকি হাতে করে টানলে রাস্তার পিচ ও পাথরের আস্তরণ উঠে চলে আসছে। শুধু তাই নয় , সদ্য তৈরি হওয়া রাস্তা দিয়ে ট্রাক্টর কিংবা বাইক চালিয়ে কেউ গেলে চাকার সঙ্গে পিচ ও পাথরের আস্তরণ উঠে চলে যাচ্ছে। 
হারুণ মল্লিক বলেন , ’রাস্তায় পিচ ও পাথরের প্রলেপ দেবার আগে ধুলো ময়লা সব পরিস্কার করে দিয়ে ‘ক্যাটানিক বিটোমিনের’ প্রাইম কোড দেবার কথা। কিন্তু সেইসব না দিয়ে  ধুলোর উপরেই পিচ ও পাথর ফেলে রোলার দেওয়া হচ্ছে। সেই কারণেই পিচ ও পাথরের আস্তরণ সব উঠে চলে যাচ্ছে। এমন নিম্ন মানের কাজ দেখে মাঠনশীপুর গ্রামের বাসিন্দারা ক্ষিপ্ত । তাই প্রতিবাদ জানিয়ে রাস্তার কাজ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। আর এক বাসিন্দা সামসুল হুদা বলেন , ‘ লক্ষী পুজোর পর অফিস খুললে তাঁরা বিষয়টি নিয়ে জেলা প্রশাসনের উচ্চ মহলে দরবার করবেন। চিঠি  লিখে মুখ্যমন্ত্রীকেও  সবিস্তার  জানাবেন। ’প্রশাসন ওয়ার্ক অর্ডার মোতাবেক ঠিকঠাক রাস্তা তৈরির বন্দোবস্ত না করা পর্যন্ত ঠিকাদার সংস্থাকে রাস্তা তৈরির কাজ আর করতে দেওয়া হবে না বলে গ্রামবাসীরা সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। 
এই বিষয়ে পূর্ব বর্ধমান জেলা পরিষদের পূর্ত কর্মাধ্যক্ষ উত্তম সেনগুপ্ত টেলিফোনে বলেন ,“ রাস্তার কাজ নিয়ে  গ্রামবাসীদের ক্ষোভের কথা জেনেছি। তার পরেই ওই এলাকায় এসএই কে পাঠাই । গ্রামবাসীদের বিক্ষোভের জন্য আমিও রাস্তার কাজ আপাতত  বন্ধ রাখতে বলেছি। জেলাপরিষদের  ইঞ্জিনিয়ার তাঁর  মায়ের অসুস্থতায় জন্য কলকাতায় আছেন। তিনি ফিরলে রাস্তার কাজ পরীক্ষা করানো হবে। ইঞ্জিনিয়ারের রিপোর্টের ভিত্তিতে  পরবর্তী  সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।” জেলা পরিষদের সহ সভাধিপতি দেবু টুডু জানিয়েছেন , “এলাকাবাসীর অভিযোগ খতিয়ে দেখা হবে। প্রকৃতই রাস্তার কাজে অনিয়ম থাকলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ”

Post a comment

0 Comments