তৃণমূল নেতার বিরুদ্ধে তোলা চাওয়ার অভিযোগ উঠলো জামালপুরে

Subscribe Us

তৃণমূল নেতার বিরুদ্ধে তোলা চাওয়ার অভিযোগ উঠলো জামালপুরে



হুমকি দিয়ে ঠিকাদারদের কাছ থেকে তোলা আদায় করার পরেও তাদের বেকায়দায় ফেলার অভিযোগ উঠলো তৃণমূল নেতার বিরুদ্ধে।আর তা নিয়েই পূর্ব বর্ধমানের জামালপুরের তৃণমূল নেতা প্রেমনাথ ঘোষালের সঙ্গে ঠিকাদারদের বিরোধ চরমে উঠেছে।উভয় পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ দায়ের করেছেন  জামালপুর থানায়।পুলিশ অভিযোগের তদন্ত শুরু করেছে।এই ঘটনা জানাজানি হতেই শোরগোল পড়ে গিয়েছে জামালপুরের রাজনৈতিক মহলে। মান বাঁচাতে দায় এড়াচ্ছে জামালপুরের তৃণমূল নেতৃত্ব।
জামালপুরের পাঁচড়া গ্রাম পঞ্চায়েতের পাঁচড়া গ্রামে বাড়ি তৃণমূল নেতা প্রেমনাথ ঘোষালের। তাঁর স্ত্রী সোমা ঘোষাল তৃণমূল পরিচালিত জামালপুর পঞ্চায়েত সমিতির সদস্যা।লিখিত  অভিযোগে প্রেমনাথ ঘোষাল পুলিশকে জানিয়েছেন, পঞ্চায়েত ও ব্লক প্রশাসনের দপ্তরের নানা দুর্নীতি  নিয়ে পূর্বেও তিনি অভিযোগ দায়ের করেছেন।পাঁচড়া পঞ্চায়েতের কয়েকটি কাজের বিষয়ে তথ্য জানতে চেয়ে গত ৫ নভেম্বর তিনি তথ্য জানার আধিকার আইন মাফিক চিঠি করেন। প্রেমনাথ ঘোষালের অভিযোগ, তিনি আরটিআই করেছেন জানার পরেই ঠিকাদাররা তাকে ফোনে হুমকি দেয়।পরে  জামালপুরের ঠিকাদার জ্যোতি চন্দ ,বাপি ঘোষ ও সমীরণ ঘোষ তার বাড়িতে  চড়াও হয়।আরটিআই করার জন্য ওই ঠিকাদাররা তাঁকে হুমকি দেয়। যাবার সময়ে ঠিকাদাররা  বলে যায় আরটিআই করা চিঠি প্রত্যাহার করে না নিলে তারা তাঁকে ও তাঁর স্ত্রী, পুত্রকে মেরে লাশ গুম করে দেবে।প্রেমনাথ ঘোষাল বলেন ,ঠিকাদাররা এমন হুমকি দিয়ে যাওয়ায় তার স্ত্রী ও পুত্র সহ গোটা পরিবার আতঙ্কে রয়েছে।ঠিকাদারদের শাস্তির দাবি করেছেন তৃণমূল নেতা প্রেমনাথ ঘোষাল। 
যদিও তৃণমূল নেতা প্রেমনাথ ঘোষালের আনা অভিযোগ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন ঠিকাদার জ্যোতি চন্দ। তিনি পুলিশের কাছে প্রেমনাথ ঘোষালের বিরুদ্ধে  পাল্টা তোলা চাওয়ার অভিযোগ দায়ের করেছেন। জ্যোতি চন্দ ও তাঁর সহযোগী ঠিকাদারদের অভিযোগ ,ভয় দেখিয়ে দীর্ঘ দিন ধরে প্রেমনাথ ঘোষাল ঠিকাদারদের কাছ থেকে কাঁড়ি কাঁড়ি টাকা তোলা আদায় করে আসছেন। দুর্গা পুজোর আগে তাঁদের কাছে প্রেমনাথ ঘোষাল মোটা টাকা তোলা চায়। করোনা অতিমারির মধ্যে ব্যবসা থমকে থাকায় সেই টাকা তাঁরা দিতে অস্বীকার করেন। সেই কারণে ঠিকাদারদের বেকায়দায় ফেলতে প্রেমনাথ ঘোষাল পাঁচড়া পঞ্চায়েতের করানো পূর্বের কয়েকটি প্রকল্পের কাজ নিয়ে আরটিআই করেন।জ্যোতি চন্দ বলেন,আরটিআই করার জন্য তাদের বিল পেমেন্ট পেতে দেরি হবে। তাই প্রেমনাথ ঘোষাল আরটিআই করে তাদের বেকায়দায় ফেলতে চাইছে।অপর ঠিকাদার  বাপি ঘোষ ও সমীরণ ঘোষ বলেন , আরটিআই প্রত্যাহার করে নেবার আবেদন জানাতে তাঁরা কয়েকদিন আগে প্রেমনাথ ঘোষালের বাড়িতে গিয়েছিলেন। আরটিআই প্রত্যাহার করার জন্য ওই দিনও  প্রেমনাথ ঘোষাল তাঁদের কাছে ২০ হাজার টাকা দাবি করেন। ওইদিন টাকা  দিতে অস্বীকার করায় প্রেমনাথ ঘোষালের স্ত্রী তাঁদের মারতে আসে। 
ঠিকাদার জ্যোতি চন্দ সোমবার অভিযোগে আরও  বলেন , “প্রেমনাথ ঘোষাল শুধু ঠিকাদারদের কাছ থেকেই তোলা আদায় করেন না। রেশন ডিলার ,ইট ভাটা মলিক , বালি খাদ মালিক সবার কাছ থেকে প্রেমনাথ ঘোষাল তোলা আদায় করেন। পার্টির নামে তোলা আদায় করে প্রোমনাথ ঘোষাল নিজের আখের গোছান বলে এই  ঠিকাদারদের অভিযোগ। ঠিকাদার জ্যোতি  চন্দ এমন অভিযোগ তোলায় তাঁকেও এক হাত নিয়েছেন প্রেমনাথ ঘোষাল। প্লাল্টা অভিযোগে প্রেমনাথ  ঘোষাল বলেন ,জ্যোতি চন্দ বাম আমলে সিপিএম পার্টির হয়ে নেতাগিরি করতো। বাম আমলে যারা জামালপুরের তৃণমূল করতো তাদের উপরে নির্মম অত্যাচার চালাতো জ্যোতি চন্দ।এখন তৃণমৃলের কয়েকজনকে পটিয়ে ঠিকাদারি কাজ করে পয়সা লুঠছে। প্রেমনাথ ঘোষাল দাবি করেন, তিনি তৃণমূলের জন্ম লগ্ন থেকে তৃণমূল পার্টি করছেন। তৃণমূলের প্রতীকে পঞ্চায়েত নির্বাচনে লড়েই তাঁর স্ত্রী জামালপুর পঞ্চায়েত সমিতির সদস্যা হয়েছে বলে প্রেমনাথ ঘোষাল মন্তব্য করেন। দলের কর্মসূচির জন্য তিনি বিভিন্ন জনের কাছে সাহায্য নেন।লোকের কাছে টাকা নিয়ে তিনি নিজে কোনদিন আত্মসাৎ করেন নি। প্রেমনাথ ঘোষালের বক্তব্য ,দুর্নীতি ঢাকতে ঠিকাদাররা তাঁর নামে মিথ্যা অভিযোগ  খাড়া করছেন। এই মিথ্যা অপবাদ বিষয়ে তিনি আদালতের দ্বারস্থ হবেন বলে জানিয়েছেন। 
জামালপুর ব্লক তৃণমূলের কার্যকরী সভাপতি  প্রদীপ পাল বলেন, “ঘটনার কথা শুনেছি। দুই পক্ষই থানায় অভিযোগ দায়ের করেছে ।এই বিষয়ে  পুলিশ তদন্ত করে যা ব্যবস্থা নেওয়ার নেবে। যদি কেউ তোলা আদায় করে থাকে প্রশাসন তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা  নেবে। দল তার পাশে থাকবে না। ” অন্যদিকে বিজেপির জামালপুর বিধানসভার আহ্বায়ক জিতেন ডকাল বলেন , ”কাটমানি ও তোলা আদায়কারীরাই তৃণমূলের সম্পদ।" ঠিকাদাররা যে অভিযোগ তুলেছে তা একশো শতাংশ সত্য।কাটমানি ও তোলা আদায় করেই তৃণমূল নেতারা যে বিত্তশালি বনে গিয়েছেন তা গোটা রাজ্যের মানুষই জানেন।

Post a Comment

0 Comments