নাড়া পোড়ানোর বিরুদ্ধে চাষিদের সচেতন করতে পদযাত্রা

Subscribe Us

নাড়া পোড়ানোর বিরুদ্ধে চাষিদের সচেতন করতে পদযাত্রা



সরকারি ও বেসরকারি এত প্রচার সত্বেও রাশ টানা যাচ্ছে না নাড়া পোড়ানোয়বেলাগাম নাড়া পোড়ানোর ছবি শুধুমাত্র পূর্ব বর্ধমান জেলায় নয়, কার্যত গোটা রাজ্যেই একই চিত্র। তবু্ও সচেতনতায় কোন খামতি রাখতে চাইছে না প্রশাসন। বুধবার নাড়া পোড়ানো বিরোধী দিবস পালিত হল।ধান কাটার পর জমিতে থাকা  ধানের নাড়া পোড়ানো যেন  অভ্যাসে পরিণত হয়েছে।চাষীদের একাংশ এই কাজ করেই যাচ্ছে। এর বিরুদ্ধে চাষিদের সচেতন করতে পদযাত্রা হল জেলার বড়শুলে।পদযাত্রায় উপস্থিত ছিলেন পঞ্চায়েত সমিতির  সহসভাপতি অরুণ গোলদার, ব্লক আতমা সভাপতি লবকুমার দাস এবং স্থানীয়  সমবায় সমিতির সদস্যরা।কম্বাইণ্ড হার্ভেস্টার বা ধান কাটা মেশিন ব্যবহারের পর জমিতে নাড়া ও খড়ের টুকরো  পরে থাকে। চাষিদের একাংশের ধারণা জমিতে থাকা ধানের নাড়া আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দিলে পোড়া ছাই জমির উর্বরতা বাড়াবে।সার হিসাবে কাজ করে।কিন্তু ওই নাড়া ও  খড়ে আগুন লাগিয়ে পুড়িয়ে দেওয়া হলে জমির একদিকে যেমন উর্বরতা কমে যায়, ঠিক তেমনি জমিতে থাকা কেঁচো সহ বিভিন্ন জমির উপকারী প্রাণী মারা যায়। ফলে জমি বিভিন্ন ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।শীতকালে নাগাড়ে নাড়া পোড়ানো হলে পরিবেশে তার ব্যাপক প্রভাব পড়ছে।বায়ু দূষণ হচ্ছে, তাপ বাড়ছে বায়ু মণ্ডলে।উষ্ণায়ণ হচ্ছে। বাতাস দুষিত হচ্ছে,পাশাপাশি জমির মাটির মধ্যের থাকা বিভিন্ন জীবাণু কেঁচো, পোকাপাকড় মারা যাচ্ছে। জমির মাটি আগুনে পুড়ে মাটি শক্ত হয়ে যাচ্ছে।মাটিতে প্রয়োগ করা সার নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।মাটিতে  থাকা জীবাণু মরে যাওয়ায় জমির উর্বরতা শক্তি কমে যাচ্ছে। এরফলে জমিতে ফসলের উৎপাদন কমে যাবে।এইসব প্রচার ধারাবাহিক ভাবে চললেও বাগে আনা যাচ্ছে না নাড়া পোরানোয়।সারের অপচয় ও ফসলের ফলন কমে যাচ্ছে, নাড়া ও খড়ের মধ্যে থাকা উদ্ভিদ খাদ্যও পুড়ে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।বরং নাড়া না পুড়িয়ে জমিতে পড়ে থাকা নাড়া ও খড় জমিতে মজুত করে পচানো হলে জৈব সার তৈরি হবে।বাড়বে জমির উর্বরতা। ফলন বাড়বে ফসলের।তাই জমির আল বরাবর খড় ও নাড়া  জমা করে,পচিয়ে মাটির সঙ্গে মেশালে সারের কাজ করবে।ভার্মিকম্পোস্ট, মাসরুম বা  গবাদি পশুর খাদ্য হিসাবে ব্যবহার করা হলে সব দিকেই উপকৃত হবেন চাষীরা।২০১৯ সালে গ্রীণ ট্রাইবুনালের নির্দেশ অনুযায়ী জমিতে নাড়া ও খড় পোড়ানো আইনত দণ্ডনীয়  অপরাধ ঘোষণা করে। মাটির স্বাস্থ্য রক্ষা করে অধিক ফলন পেতে জমিতে নাড়া ও খড় না পোড়ানো জন্য বলা হয়।তবু আটকানো যাচ্ছে না। 
এলাকার চাষী কাশিনাথ ঘোষ বলেন, চাষীরা সচেতন না হলে আমাদেরই ক্ষতি হবে।জমির উর্বরতা শক্তি হ্রাস পাবে।ফলন কমে যাবে জমিতে।বর্ধমান ২ নম্বর পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি শ্যামল দত্ত বলেন  আগে তো এরকম হত না।এখন হারভেস্টার দিয়ে ধান কাটার জন্য জমিতে খড় পড়ে থাকছে।খরিফ মরশুমের পর জমিতে আলুচাষ করার জন্য খড় পুড়িয়ে দেওয়ার প্রবণতা বেড়েছে চাষীদের। কিন্তু এতে জমির উর্বরতা শক্তি কমে যাচ্ছে। চাষীরা সচেতন না হলে সামনে বড় বিপদ আসছে।

Post a comment

0 Comments