খরিফ মরশুমের চাষে চরম জল সংকটে শস্যগোলা পূর্ব বর্ধমানের চাষীরা

Subscribe Us

খরিফ মরশুমের চাষে চরম জল সংকটে শস্যগোলা পূর্ব বর্ধমানের চাষীরা



জেলার দক্ষিণ দামোদর এলাকার কৃষকদের এখন মাথায় হাত। দিন সাতেক আগে ডিভিসির সেচখালে জল সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়।এখন জলের অভাবে মাঠ ফুটিফাটা।দক্ষিণ দামোদরের খণ্ডঘোষ, রায়নায় বেশির ভাগ জমিতেই কৃষকরা খরিফ মরশুমে লাল স্বর্ণ প্রজাতির ধান চাষ করেছেন।ধানে এখন ফুল পরিপূর্ণ। গড়ে ৯০ শতাংশ ধান ফুলিয়ে গেছে। এই সময়ে জমিতে জলের প্রয়োজন বেশী।অথচ জমিতে জল নাই।চাষীরা পুকুর থেকে পাম্প চালিয়ে জমিতে জল দেবার ব্যবস্থা করছেন। কিন্তু তাতে সব জমিতে ওই ভাবে জল দেওয়া কার্যত অসম্ভব। ধান ফোলানের সময় (ধানে ফুল ধরা) জল কম পেলে বা মাঠে জলের অভাব হলে ধানের ফলন বা উৎপাদনে মার।ফলন কমে যাবে। তাই শঙ্কায় এলাকার চাষীরা।
খণ্ডঘোষের অনগুনা গ্রামের চাষী রামপ্রসাদ হাজরা বলেন, ধানের ফলন কমে গেলে আমরা চরম সংকটে পড়বো।লাগাতার ধানে কীটনাশক প্রয়োগ করে এবছর এমনিতেই উৎপাদন খরচ বেশি হয়েছে। তার উপর চড়া দামে রাসায়নিক সার কিনতে হচ্ছে চাষীদের।মজুরের দাম বেড়েছে। সব নিয়ে চাষীরা এমনিতেই সমস্যায় জর্জরিত। তার উপর জলের অভাবে যদি ধানের ফলন কমে যায় তাহলে সমস্যা আরো বাড়বে।গত কয়েক বছরে রাসায়ানিক  সার ও কীটনাশকের দাম বেড়েছে লাগাম ছাড়া। সেই তুলনায় কৃষকের উৎপাদিত ধানের দাম বাড়ে নি।ফলে গোটা রাজ্যের মত শস্যগোলা পূর্ব বর্ধমানের চাষীরাও বেশ অসুবিধার মধ্যে আছেন।এলাকার কৃষকদের দাবী ডিভিসির সেচখালে সপ্তাহ খানেকে মত জল সরবরাহ করা হলে তাদের  ধান ফুলিয়ে যাবে।উৎপাদনও ভালো হবে।কৃষক সচিন ঘোষ বলেন, এখন জমিতে জলের টান মানে চরম ক্ষতির মুখে পড়তে হবে।এই সময়ে জল জমিতে কম থাকলে বা জমি ফেটে গেলে ধানের ফলন একেবারে তলানিতে ঠেকবে।
এই বিষয়ে জেলা পরিষদের সভাধিপতি শম্পা ধাড়া বলেন, বিষয়টি দেখা হচ্ছে। কিভাবে সমস্যা সমাধান করা যায় সেই নিয়ে জেলাশাসকের সঙ্গে আলোচনা চলছে।

Post a Comment

0 Comments

close