দিনে দুপুরে সোনার দোকানে ডাকাতি বর্ধমান শহরে

Subscribe Us

দিনে দুপুরে সোনার দোকানে ডাকাতি বর্ধমান শহরে



শহরের বি বি ঘোষ রোড আর পার্কাস রোডের জংশনে জনবহুল এলাকায় লুঠ হয়ে গেল দশটি সোনার হার, বেশ কয়েকটি আংটি , মঙ্গলসূত্র সহ বেশ কিছু মূল্যবান গহনা।ব্যবসায়ী সমিতির সম্পাদকের কাছে খবর পেয়ে পুলিশ এসে তদন্ত শুরু করেছে।কিন্তু ততক্ষণে দুই দুস্কৃতী বাইকে চেপে নাগালের বাইরে।দোকানটি ছোটো।দোকানে কোনো সি সি টি ভি নেই। দোকানের মালিক ও তার মেয়ে পর্যায়ক্রমে দোকানে বসেন। আজ দোকানে ছিলেন মালিকের মেয়ে দীপান্বিতা দত্ত। তিনি জানিয়েছেন, দুপুর তিনটে নাগাদ দুই যুবক দোকানে এসে  হাজির হয়। তাদের মুখে মাস্ক ছিলনা। তারা হিন্দিভাষায় কথাবার্তা বলছিল।প্রথমে তারা লকেট দেখার অছিলায় কথাবার্তা শুরু করে।এভাবে নানাভাবে সময় কাটিয়ে একটার পর একটা গয়না হাতিয়ে নিতে থাকে। এগুলি বেশ কিছু অর্ডারের গয়না ছিল।এরপর তাদের অসদুদ্দেশ্য টের পেয়ে দোকানদার যুবতী চিৎকার শুরু করে। সে সাধ্যমতো বাধা দেবার চেষ্টা করে।কিন্তু দুস্কৃতীরা রীতিমতো থ্রিলারের কায়াদায় প্রকাশ্য দিবালোকে ডাকাতি সেরে বাইকে চেপে পালিয়ে যায়। বাইকটি দোকানের সামনেই দাঁড় করানো ছিল। মেয়েটির চিৎকার শুনে ছুটে আসেন আশেপাশের দোকানদাররা।এসময় ওখান দিয়ে যাচ্ছিলেন ব্যবসায়ী সুরক্ষা সমিতির সম্পাদক বিশ্বেশ্বর চৌধুরী। তিনি সবটা শুনে থানায় খবর দেন। দ্রুত বর্ধমান থানার আইসি পিন্টু সাহার নেতৃত্ব পুলিশ এসে তদন্ত শুরু করে।বিশ্বেশ্বর চৌধুরী জানান; এভাবে দিনেদুপুরে জনবহুলা এলাকায় ডাকাতি ভাবাই যায়না। তারা রীতিমতো আতঙ্কিত। তবে দোকানটি পর্যাপ্ত নিরাপত্তা থাকা দরকার ছিল।তিনি জানান; একের পর এক সোনার দোকানে দুস্কৃতী হানায় তাঁরা বিচলিত। তারা চান আরো সুরক্ষার ব্যবস্থা।একইসঙ্গে চান নিরাপত্তা নিয়ে দোকানদাররাও আরো সতর্ক হোন।প্রত্যক্ষদর্শী সন্দীপ স্যানাল বলেন বাইকটি দোকানের পাশে ছিল।দুস্কৃতিরা কৌশলের আশ্রয় নেয়।যাতে পাশাপাশি ব্যবসায়ী বা পথচলতি মানুষজন কিছু বুঝতে না পারেন।যখন দোকানের মহিলা চোর চোর করে চিৎকার করছেন, তখন দুস্কৃতিরা টাকা চাইছে আর গালিগালাজ করছে পাল্টা। অনেকেই মনে করেছেন ক্রেতা বিক্রেতা বাগবিতণ্ডা হচ্ছে। কিন্তু যখন সকলের ভুল ভেঙেছে ততক্ষণে দুই দুস্কৃতির দ্রুত বাইক নিয়ে চম্পট দিয়েছে। 
উল্লেখ্য কয়েকমাস আগেই বর্ধমানের বি সি রোডে একটি স্বর্ণ-ঋণদানকারী  সংস্থায় ত্রিশ কেজি সোনা ডাকাতি হয়।সেই ঘটনাস্থল ছিল থানার অদুরেই।দুস্কৃতীরা গুলি চালিয়ে একজনকে জখম করে পালিয়ে গিয়েছিল। এছাড়াও শহরে আরো বেশ কিছু চুরি; ছিনতাই হয়েছে।শহরের মানুষ বিশেষত ব্যবসায়ী মহলে আতঙ্ক ও নিরাপত্তাহীনতা বেড়েই চলেছে।

Post a Comment

0 Comments

close