বর্ধমান রেল স্টেশনের পাশে শতাব্দী প্রাচীন পুরনো ওভারব্রীজে যান চলাচল পুরোপুরি বন্ধ করা হল

Subscribe Us

বর্ধমান রেল স্টেশনের পাশে শতাব্দী প্রাচীন পুরনো ওভারব্রীজে যান চলাচল পুরোপুরি বন্ধ করা হল



বর্ধমান রেল স্টেশনের পাশে শতাব্দীপ্রাচীন পুরনো ওভারব্রীজে যান চলাচল পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেল। ব্রীজের দু'দিকে খুঁটি পুতে দেওয়া হয়েছে। শুধুমাত্র মানুষ পেয়ে হেঁটে কিংবা সাইকেল নিয়ে ব্রীজের উপর দিয়ে যাতায়াত করতে পারবেন।এখন থেকে নতুন উড়ালপুল দিয়ে টোটো, রিক্সা সবই চলবে।এরফলে চরম সমস্যায় পড়বেন বাজেপ্রতাপপুর এলাকার বাসিন্দারা। এপাড় থেকে ওপাড়ে যাতায়াতের ক্ষেত্রে ভোগান্তি মারাত্মক হবে বলে  এলাকার বাসিন্দারা জানান।  
গত ২২ ডিসেম্বর পুরনো ও নতুন রেল ওভারব্রীজ পরিদর্শনে আসেন পূর্ব রেলের ডিআরএম।ওইদিন  ডিআরএম এস কে দাস তার সহকর্মীদের নিয়ে বর্ধমানে পরিদর্শনে আসেন। একটি ইন্সপেকশন কারে চেপে তারা বর্ধমান জংশনে আসেন। এখানে এসে প্রথমে ১ নম্বর প্লাটফর্মে আসেন তিনি। তারপর চলে যান ভারতের মধ্যে অন্যতম আকর্ষণীয়  নতুন রেল ওভারব্রীজ পরিদর্শনে। এখানে তিনি খুঁটিয়ে সব দেখেন।দেখেন ব্রীজ ; অ্যাপ্রোচ রোড। দেখেন ট্রাফিকের ব্যবস্থা। 
তারপর তিনি জেলাশাসক এনাউর রহমানের সঙ্গে বিভিন্ন বিষয়ে বৈঠক করেন। বৈঠকের শেষে জানান; নতুন ওভারব্রীজ দিয়ে এখন প্রায় সব গাড়িই চলছে। এতে জনসাধারণের বিরাট সুবিধা হয়েছে।এছাড়া তিনি জানান পুরনো ব্রীজ আপাতত থাকছে। তা ভেঙে ফেলা হচ্ছেনা এখন। তবে তা দিয়ে কেবল পথচারীরাই চলবেন।গাড়িঘোড়া কেবল নতুন ব্রিজ দিয়েই যাচ্ছে এবং যাবে। পুরনো ব্রীজে বেশি ভার দেওয়া যাবেনা। তবে বিকল্প কী ব্যবস্থা করা যায় তা ভাবা হচ্ছে। তারপর পুরনো ব্রিজ নিয়ে সিদ্ধান্ত নেবে রেল।  আরো জানান; নতুন ব্রিজের অ্যাপ্রোচ রোডের দায়িত্ব তারা রাজ্য সরকারের হাতে তুলে দিতে চান।  এ নিয়ে আলোচনা হয়েছে। তারপর এই রাস্তাগুলির রক্ষণাবেক্ষণ রাজ্য সরকারই করবেন।অন্যদিকে জেলাশাসক এনাউর রহমান জানান এটি একটি সমন্বয় মিটিং।জানুয়ারিতে প্রথম সপ্তাহে নতুন ব্রিজের এপ্রোচ রোডের দায়িত্বভার  হস্তান্তর নিয়ে আলোচনা হয়েছে। পি ডব্লুউ ডি ও সভায় ছিল। তিনি জানান পথচারি আর বয়স্ক মানুষের অসুবিধার কথা তুলে ধরা হয়েছে। পুরনো ব্রীজ ভাঙা হচ্ছেনা। বিকল্প যতদিন না হয় রেল ওই ব্রীজের রক্ষণাবেক্ষণ করবে।কেবল পথচারীরা ও সাইকেল আরোহীরাই ওটি ব্যবহার করছেন। প্রসঙ্গত এই পুরনো ওভারব্রীজ ভাঙার চর্চা শুরু হতেই বেশ কিছুদিন আগে আন্দোলনে নামেন শহরের নাগরিকদের একাংশ। শহরের একাংশে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হবার আশংকা হয়। এই দাবিতে আন্দোলন করে এস ইউ সি আই ; সি পি এম।  আন্দোলনে নামে বিজেপি ও শাসক দল  তৃণমূল আর  তার শ্রমিক সংগঠন।বর্ধমানের  নতুন ওভারব্রীজ  একটি স্টেট অফ আর্ট ব্রিজ। বছর দু'য়েক আগে নতুন উড়ালপুল চালু হয়।প্রথমে বিভিন্ন যানবাহন চলাচলের বিষয়ে নিয়ন্ত্রণ জারি করা হয়।তবে এখন  ধাপে ধাপে বাইক সহ ছোটবড় সব গাড়িই এখানে চলতে শুরু করে। চার লেনের এই অত্যাধুনিক ব্রিজ পূর্ব বর্ধমানের কালনা কাটোয়া সহ রাজ্যের বিস্তীর্ণ অঞ্চলের নতুন যোগসূত্র। প্রায় ১১০ কোটি টাকা ব্যয়ে তৈরি এই ঝুলন্ত ব্রিজ তৈরি করা হচ্ছে। ভারতবর্ষ তথা ভারতীয় রেলের ইতিহাসে রেল লাইনের উপরে এটাই দীর্ঘতম ঝুলন্ত ব্রিজ। মুম্বইয়ের বান্দ্রা ওরলি সি লিঙ্কে যে ঝুলন্ত ব্রিজ রয়েছে, তা বর্ধমানের নতুন ব্রিজের তুলনায় অনেকটাই ছোট। রেল লাইন থেকে সেতুর উচ্চতা প্রায় সাড়ে ছয় মিটার। ব্রিজের দু’পাশে দুটি পিলার থেকে ব্রিজটিকে ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে। সেতুটি নির্মাণে কয়েকবছরের  সময়সীমা লেগেছিল।
বর্ধমান কাটোয়া পুরনো রেল ওভারব্রিজটি ক্রমশই ভগ্নপ্রায় হয়ে পড়ায়, নতুন উড়ালপুল তৈরি করা হয়।এটি ছিল একশো বছরের পুরনো একটি ব্রিজ। নতুন সময়ে বেড়ে চলা ট্রাফিকের ক্রমবর্ধমান ভার বইতে ক্রমশ জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছিল এই ব্রিজ। 
স্থানীয় বাসিন্দা মহেশ গিরি বলেন সমস্যা তো বাড়লো।এইভাবে পায়ে হেঁটে বা টোটো করে নতুন উড়ালপুল দিয়ে যাওয়া খুবই কঠিন ব্যাপার।
বাজেপ্রতাপপুরের বাসিন্দা নরুল আলম বলেন দু'পাড়ের যোগাযোগ ব্যবস্থা এখন কঠিন হয়ে গেল।এপাড় থেকে ওপাড় পায়ে হেঁটে যাওয়া কার্যত অসম্ভব। রেল কর্তৃপক্ষের উচিত সাইকেল, টোটো, রিক্সা ও পায়ে হেঁটে যাওয়ার জন্য একটি বিকল্প ব্যবস্থা করা। নাহলে উড়ালপুল দিয়ে সব যাতায়াত করলে দুর্ঘটনা ঘটবে।তিনি দাবী করেন রেলের উচিত এলাকার বাসিন্দাদের দাবি মেনে বিকল্প রাস্তা তৈরি করা।

Post a Comment

0 Comments

close