নন জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পের কালোবাজারি নিয়ে অভিযানে নামল পূর্ব বর্ধমান জেলা প্রশাসন

Subscribe Us

নন জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পের কালোবাজারি নিয়ে অভিযানে নামল পূর্ব বর্ধমান জেলা প্রশাসন




বুধবার বর্ধমান মহকুমা শাসক (উত্তর) দীপ্তার্ক বসুর নেতৃত্বে একটি টিম বর্ধমান আদালত চত্বরের বেশ কয়েকটি জায়গায় হানা দেয়। হানায় ভিন জেলার প্রচুর সংখ্যক নন জুডিশিয়াল স্ট্যাম্প উদ্ধার হয়েছে। স্ট্যাম্পের কালোবাজারিতে জড়িত থাকার অভিযোগে এক মহিলা স্ট্যাম্প ভেণ্ডার সহ দু’জনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে। আদালত চত্বরের দু’টি গুমটি সিল করে দেওয়া হয়েছে। এর পিছনে বড়সড় চক্র জড়িত বলে প্রশাসনের কর্তাদের অনুমান। ভিন জেলার স্ট্যাম্প কিভাবে এখানে আসছে তা তদন্ত করে দেখা হবে বলে প্রশাসনের এক কর্তা জানিয়েছেন। স্ট্যাম্পের কালোবাজারির বিরুদ্ধে প্রশাসনের অভিযানে খুশি আইনজীবী ও ল’ক্লার্করা। তাঁদের বক্তব্য, বছর খানেক ধরে স্ট্যাম্পের কালোবাজারি চলছে। ১০ টাকার স্ট্যাম্প ৮০-৯০ টাকা দিয়ে কিনতে হচ্ছে। অন্যান্য মূল্যের স্ট্যাম্পও তিন চারগুণ বেশি দাম দিয়ে কিনতে হচ্ছে। এনিয়ে প্রশাসনের নানা মহলে জানানো হয়। বার অ্যাসোসিয়েশনের তরফেও বিষয়টি দেখার জন্য জেলাশাসককে চিঠি দেওয়া হয়। যদিও তার অনেক দিন পর ব্যবস্থা নেওয়া হল।
একজনকে ক্রেতা সাজিয়ে আদালত চত্বরের দু’টি গুমটিতে পাঠানো হয়। তিনি দু’টি গুমটি থেকেই ১০ টাকার নন জুডিশিয়াল স্ট্যাম্প কেনেন। তাঁর কাছ থেকে অনেক বেশি দাম নেওয়া হয়। তিনি চলে যাওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই গুমটি দু’টিতে পুলিসকে সঙ্গে নিয়ে হানা দেন প্রশাসনের কর্তারা। দোকান দু’টি থেকে বেশ কয়েকটি নানা মূল্যের স্ট্যাম্প মেলে। গুমটির খাতাপত্র বাজেয়াপ্ত করা হয়। গুমটি দু’টিকে সিল করে দেওয়া হয়। গুমটির এক মালিককে আটক করা হয়। অপরজন মওকা বুঝে পালিয়ে যায়। পরে টিমটি আরও কয়েক জায়গায় হানা দেয়। এক মহিলা স্ট্যাম্প ভেণ্ডারের খাতাপত্র পরীক্ষা করে গরমিল পেয়ে তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিয়ে যান প্রশাসনের কর্তারা। তাঁর কাছ থেকেও বেশকিছু স্ট্যাম্প মিলেছে বলে জানা গিয়েছে। অতিরিক্ত জেলাশাসক (সাধারণ) অনির্বাণ কোলে বলেন, বেশ কিছুদিন ধরে বেশি দামে স্ট্যাম্প বিক্রি নিয়ে অভিযোগ আসছিল। মহকুমা শাসকের নেতৃত্বে কয়েক জায়গায় অভিযান চালানো হয়েছে। অবৈধভাবে স্ট্যাম্প বিক্রির জন্য দু’টি গুমটি সিল করে দেওয়া হয়েছে। বর্ধমান থানাকে তদন্তের জন্য বলা হয়েছে। ভিন জেলার কিছু স্ট্যাম্প পাওয়া গিয়েছে। কয়েকজন ভেণ্ডারকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। ভেণ্ডারদের খাতাপত্র পরীক্ষা করা হচ্ছে। বর্ধমান থানার এক অফিসার বলেন, দু’জনকে আটক করা হয়েছে। অভিযোগ পেলে আইনমাফিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বার অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক সদন তা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে স্ট্যাম্পের কালোবাজারি চলছে। প্রশাসনের নাকের ডগায় এই কারবার চললেও এতদিন ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এনিয়ে জেলা শাসককে বারের তরফে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে। স্ট্যাম্পের কালোবাজারির জন্য বহু মানুষের সমস্যা হচ্ছিল। গরিব মানুষকে বেশি দাম দিয়ে স্ট্যাম্প কিনতে হচ্ছিল। দেরিতে হলেও প্রশাসন ব্যবস্থা নেওয়ায় আমরা খুশি। তবে, কালোবাজারি চক্রে জড়িত বাকিদের বিরুদ্ধেও যেন ব্যবস্থা নেওয়া হয়। এর শিকড় পর্যন্ত যেন তদন্ত পৌঁছায়।

Post a Comment

0 Comments

close