নতুন বছরের প্রথম দিনেই ভক্তদের ঢল বর্ধমানের সর্বমঙ্গলা মন্দিরে

Subscribe Us

নতুন বছরের প্রথম দিনেই ভক্তদের ঢল বর্ধমানের সর্বমঙ্গলা মন্দিরে



নতুন বছরের প্রথমদিনেই ভক্তদের ঢল বর্ধমানের সর্বমঙ্গলা মন্দিরে। এদিন ভোর থেকেই বর্ধমান শহর তো বটেই দূরদূরান্ত ও ভিন জেলা থেকে ভক্তদের সমাগম হয় মন্দির চত্বরে।  তবে কোভিড বিধি মেনেই ভক্তদের ঢোকার অনুমতি মেলে মন্দিরে । কোভিড সংক্রমণের কারণে টানা ছ'মাস ধরে মন্দিরের গেটে তালা পড়েছিল। নিউ নর্মালে ধীরে ধীরে সব কিছু স্বাভাবিক হতেই খুলে গেছে কোভিডের নির্দেশিকা মেনে গেটের তালা।


সংক্রমণ এড়াতে রয়েছে স্যানিটাইজার টানেল।আছে স্যানিটাইজার।মাস্ক ছাড়া নো এন্ট্রি।স্বাস্থ্য আগে; শাস্ত্র পরে সর্বমঙ্গলা মন্দিরের মূলমন্ত্র এখন। মাস খানেক ধরে মন্দির চত্বরে বসে ভোগ খাওয়ানো শুরু করা হয়েছে।প্রতিদিন একশোজনকে  বসে ভোগ খাওয়ানোর বন্দবস্ত করা হয়েছে।তবে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখেই সব কিছু করা হচ্ছে। কোভিড বিধিকে মেনে চলা হচ্ছে কঠোরভাবেই।  
এর আগে ভোগ বিলি চালু করা হয় নবান্নের দিন।সর্বমঙ্গলা মন্দিরে নবান্ন উৎসব দিয়ে গোটা রাঢ়বঙ্গে নবান্নের সূচনা হয়। কোভিডের জন্য টানা আট মাস ভোগ বিলি বন্ধ ছিল।মাস দেড়েক আগে নবান্নের দিনে প্রথম সাধারণের জন্য ভোগ বিলি করা হয়।তবে তা সংখ্যায় কম অন্য বছরের তুলনায়। এবার ৮০০ জনকে ভোগ বিলি করা হয় বলে জানান ট্রাস্টের সম্পাদক সঞ্জয় ঘোষ ।
অন্য বছর নবান্ন অনুষ্ঠানে প্রচুর লোকজনের সমাবেশ হত। কিন্তু এবার সেই তুলনায় বেশ কম লোকজন হয়। কোভিড সংক্রমণের কারণে ছ'মাস মন্দির বন্ধ ছিল।কিন্তু রাজার আমল থেকে চলে আসা রীতির কোনো অন্যথা হয় নি এবার।
বর্ধমানের সর্বমঙ্গলা মন্দির দক্ষিণবঙ্গের অন্যতম পীঠস্থান। এখানে দেবী সর্বমঙ্গলা রূপে পুজিতা হন। এই মন্দির ঘিরে অনেক উপকথা আছে। রাজা তেজচন্দের আমলে এখানে সুন্দর মন্দির পত্তন হয়। তার আগে জেলেবাড়ির মেছেনীরা নাকি এই মূর্তির উপরে গুগলি শামুক ভাঙতেন।স্বয়ং রামকৃষ্ণ এই মন্দিরে এসেছেন বলে কথিত আছে।
এদিন বছরের প্রথম দিনে ভক্তদের সমাগম হয়। তবে তা গত বছরের তুলনায় তা বেশ কম।ভক্তরা পুজোর ঢালি নিয়ে মুখে মাস্ক পড়ে পুজো দেন। 
মন্দিরের পুরোহিত অরুণ ভট্টাচার্য বলেন মায়ের কাছে সকলেই প্রার্থনা করছেন, করোনা মহামারী শেষ হয়ে আবার সব স্বাভাবিক হোক।গোটা পৃথিবী ফিরে আসুক নিজের ছন্দে।নতুন বছর মানুষের কাছে ভালো হয়ে উঠুক। তিনি বলেন ভোর সাড়ে পাঁচটা থেকে এদিন মন্দিরের প্রধান গেট খুলে দেওয়া হয় ভক্তদের জন্য। তবে তুলনায় এবার ভক্ত সমাবেশ কম।
ভক্ত অঙ্কিতা সাধু বলেন মায়ের কাছে এই প্রার্থনা করছি, গত বছর যেমন করোনাকে নিয়ে কাটাতে হয়েছে এবার যেন তার থেকে মুক্তি পাই।মাস্ক পড়ে নয়, স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসুক সকলে।

Post a Comment

0 Comments

close