বর্ধমানে বিজেপির জেলা অফিসে হামলার ঘটনায় গ্রেফতার ৭ জন

Subscribe Us

বর্ধমানে বিজেপির জেলা অফিসে হামলার ঘটনায় গ্রেফতার ৭ জন



বিজেপির জেলা অফিসে হামলার ঘটনায় ৭ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে । এরা মূলত বিজেপি ও আর এস এস এর পুরনো কর্মী। আজ তাদের বর্ধমান আদালতে তোলা হয়েছে। আদালতে তোলার আগে বিজেপির বর্তমান জেলা নেতৃত্ব ও জেলা সভাপতির বিরুদ্ধে চূড়ান্ত ক্ষোভপ্রকাশ করেন তারা। তাদের অভিযোগ জেলা বিজেপ এখন তৃণমূল টু তে পরিণত হয়েছে। পুরনো কর্মীরা ব্রাত্য।এদের মধ্যে দেবজ্যোতি সিংহরায় আর এস এস কর্মী। তিনি বলেন , ' কাল আমরা আলোচনার করতে এসেছিলাম। আমাদের চারঘণ্টা আটকে রাখা হয়। শারীরিকভাবে নিগ্রহ করা হয়।  আমরা পার্টি অফিসে ভাঙচুর করিনি। আমরা ভিতরে ছিলাম। আমাদের চারঘন্টা আটকে রাখায় আমাদের ৫-৬ টি বিধানসভা থেকে আসা কর্মীরা ক্ষুব্ধ হন। পার্টি অফিস থেকে তাদের উপর ঢিল পাটকেল মারা হয়।' এছাড়া স্মৃতিকান্ত মণ্ডল বলেন ; ' আমরা রাজু ব্যানার্জির কথায় আলোচনায় বসেছিলাম। নেতারা থাকার কথা ছিল। আমাদের চারঘন্টা আটকে রেখে মাতালদের দিয়ে মারধোর করে জেলা সভাপতি সন্দীপ নন্দীর লোকেরা। আমরা অফিস ভাঙিনি। কেন ভাঙচুর ; গাড়ি ভাঙা ; অগ্নিসংযোগ হল সন্দীপ নন্দী জবাব দেবেন। উনি দল তৃণমূল থেকে আসা লোকেদের দিয়ে চালাচ্ছেন। পুরনো কর্মীরা দায়িত্ব পাচ্ছেন না। তারা হতাশ। এরকম চললে দল জিততে পারবে না। তাই কর্মীদের অনেকেই ক্ষুব্ধ। 
গতকাল বর্ধমানের ঘোড়দৌড়চটির বিজেপির জেলা কার্যালয়ে হামলা  ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।  দলের বিক্ষুদ্ধ গোষ্ঠীর লোকজন এদিন হামলা চালায়।মারধর করা হয় জেলা সভাপতি সন্দীপ নন্দীকেও।পালটা হামলা হয় অফিসিয়ালদের দিক থেকেও এদিন পূর্ব বর্ধমান জেলার নানা এলাকা থেকে বিক্ষুব্ধ বিজেপি কর্মীরা জেলা কার্যালয়ে আসেন। তারা জমায়েত হয়ে বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন। তাদের ক্ষোভ জেলা সভাপতি সন্দীপ নন্দী সহ বেশ কিছু কার্যকর্তার বিরুদ্ধে।  এইসময় হঠাৎ অফিসিয়াল গোষ্ঠীর সঙ্গে বিক্ষুদ্ধদের বচসা বাধে। শুরু হয়ে যায় ধুন্ধমার কাণ্ড। বিজেপি অফিসে ভাঙ্গচুর শুরু হয়।অন্যদিকে অফিসের ছাদ থেকে ইট পাথর ভাঙ্গা আসবাবের টুকরো উড়ে আসতে থাকে। বিক্ষুব্ধদের অভিযোগ তারা পুরনো কর্মী।রক্ত দিয়েছেন। মার খেয়েছেন। কিন্তু যাদের সাথে লড়াই করে এসেছেন তাদের দলে নেওয়া হচ্ছে।তাদের কথা শোনা হচ্ছে না। দলে স্বেচ্ছাচারিতা চলছে। তারা বারবার সাংসদ থেকে দলীয় নেতৃত্ব সবাইকে জানিয়েছেন। কোনো ফল হয়নি। তাদের আরো অভিযোগ  দলের অফিস থেকে অফিসিয়াল গ্রুপের লোকেরা তাদের প্রথম আক্রমণ করে। পূর্ব বর্ধমান জেলায় বিজেপি ততটা সংগঠিত ছিলনা। কিন্তু লোকসভা ভোট থেকে সংগঠন বাড়তে থাকে। লোকসভায় বর্ধমান দুর্গাপুর কেন্দ্রে জয়ী হয় দল। কয়েকদিন আগেই স্বয়ং সভাপতি  জে পি নাড্ডার রোড শোয়ে মানুষের ঢল নামে। তারপর এই ঘটনা রাজনৈতিক মহলকে অবাক করেছে।এই ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে আসে। পুলিশ লাঠিচার্জ করে অবস্থা নিয়ন্ত্রণে আনতে গেলে দু পক্ষ থেকেই পুলিশের উপর ইঁটবৃষ্টি করা হয় বলে অভিযোগ।এছাড়াও বেশ কয়েকটি বাইক ও একটি চারচাকা গাড়ি ভাঙচুর করা হয়। আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয়।কাল ঘটনার শুরুতে পূর্বঘোষিত কর্মসূচি হিসেবে জড়ো হন কিছু বিক্ষুব্ধ। তারা সংগঠনে কিছু পরিবর্তন এর দাবি করতে থাকেন। অফিসিয়াল গোষ্ঠীর সাথে তাদের আলোচনা শুরু হয়। এসময় জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে আরো বেশ কিছু বিক্ষুব্ধ জি টি রোডের পাশে জড়ো হন।এরা কাকসা; আউশগ্রাম ;কাটোয়া  সহ নানা এলাকা থেকে এসেছিলেন।এরপর মারমুখী বিক্ষুব্ধদের একাংশ জেলা অফিসে হামলা শুরু করে। পালটা ময়দানে নামে অফিসিয়াল রাও। দলের সুসজ্জিত নতুন অফিসে ভাঙচুর হয়। কাচ জানালা ঘর ভাঙা হয়। উপড়ে দেয় সি সি টি ভি। এইসময় পার্টি অফিসের ছাদ থেকে পালটা ব্যুহ রচনা করা হয়।দুপক্ষে লাগাতার ইট ছোড়াছুড়ি চলতে থাকে।দু তরফের বেশ কয়েকজন আহত হন। আক্রান্ত হন কয়েকজন সাংবাদিক। কার্যত এই হামলার খবর দ্রুত গোটা শহরে ছড়িয়ে পড়ে। এই ঘটনার জেরে কার্যত জেলা নেতৃত্ব অফিসবন্দী হয়ে পড়েন।অনেক পরে বেরিয়ে এসে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে তীব্রভাষায় বিক্ষোভকারীদের আক্রমণ করেন বিজেপির সহ সভাপতি প্রবাল রায়৷ তিনি বলেন; আমি বত্রিশ বছর দল করছি। ওরা কেউ বিজেপির কর্মী নয়। এরা চেনা লোক নয়। বিজেপির কর্মী হলে আর যাই হোক জেলা অফিসে হামলা চালাত না। তিনি বলেন পিকের টিম পয়সা দিয়ে হামলা করেছে। পিকের টিম বিক্ষুব্ধ সাজিয়ে এই নাটক করেছে।বিজেপি এর রাজনৈতিক ভাবে মোকাবিলা করবে বলে জেলা নেতৃত্ব জানিয়েছেন।

Post a comment

0 Comments