শনিবার পূর্ব বর্ধমানের মেমারিতে অনুষ্ঠিত হল সি পি আই এম এর জনসভা

Subscribe Us

শনিবার পূর্ব বর্ধমানের মেমারিতে অনুষ্ঠিত হল সি পি আই এম এর জনসভা



বিজেপি বুঝে গেছে তারা একা জিতবে না। তৃণমূলও বুঝে গিয়েছে তারা একা জিতবে না ।  তাই এবার বামেদের বাদ দিয়ে কেউ সরকার গড়তে পারবে না। সরকার বামেদেরকেই করতে হবে বলে শনিবার পূর্ব বর্ধমানের মেমারিতে জনসভা করতে এসে দাবি করলেন সিপিএম নেতা সুজন চক্রবর্তী। এই প্রসঙ্গে ব্যাক্ষা দিতে গিয়ে সুজন বাবু বলেন,ভোটের ফল ত্রিশঙ্কু হলে কি হবে এইসব বলা এখনই শুরু করেদিয়েছে বিজেপি । তার মানে হল বিজেপি বুঝে গেছে তারা একা জিততে পারবে না। তৃণমূলও সেকথা বুঝে গিয়েছে । অর্থাৎ তৃণমূল ও বিজেপি উভয়েই হারবে। জিতবে বাংলার মানুষ ।বাংলার সর্বনাশ হচ্ছে । বাংলাকে বাঁচানো হবে বলেও সিপিএম  নেতা সুজন চক্রবর্তী এদিন দাবি করলেন । ‘দিদির দূত’ নামে ট্যাবলো যাত্রার সূচনা শনিবার তৃণমূলের যুবনেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় করেন তা নিয়েও কটাক্ষ করেছেন সিপিএম নেতা সুজন চক্রবর্তী । তিনি বলেন , ‘দিদিকে দেখো’ ফেল হয়েছে। ‘দিদির গর্ব’ আর একটা ফেল । এখন ‘দিদির দূত ’ নাকি ‘দিদির ভুত’  বের হচ্ছে সেটা লোকে  পরে বুঝতে পারবে । দিদির আবার দূত কিসের । ২৯৪ টা তো দিদির । দিদিতো সর্বত্রই বিরাজমান । ‘দিদির দূত ’ না ভূত বের হচ্ছে। মুখ্যমন্তীর চালুকরা ’মা ক্যান্টিন ’ নিয়ে প্রশ্ন করা হলে সুজন বাবু বলেন ,লকডাউনের 
সময়ে বামেরা যে ’শ্রমজীবী ক্যান্টিন’  চালু করেছিল তা দেখে মুখ্যমন্ত্রীর দুঃখ হয়েছিল । এবার স্বখাত সলিলে ডুবে  বুঝতে পেরে ভোটের দু’ মাস আগে ’মা ক্যান্টিন’ উনি চালু করেছেন । এরমাধ্যমে সরকারের পয়সা লুট করার বন্দোবস্ত হয়েছে কি না তা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করে সুজন বাবু বলেন , লুটের হিসাব ফিরে এসে আমাদেরই নিতে হবে । যাদবপুর আসনে সুজন চক্রবর্তীকে এবার হাওয়া করে দেওয়া হবে বলে তৃণমূলের যুবনেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের মন্তব্য প্রসঙ্গে সুজন বাবু বলেন , বোঝা যাচ্ছে উনি এখন একজন ভালো ম্যাজিশিয়ান হয়ে গেছেন । হাওয়া করতে ওরা সত্যি পারে । বাংলার বহু মানুষকে হাওয়া করে দিয়ে মাটির তলায় পুঁতে দিয়েছে । মিথ্যা মামলায় অনেককে জেলে ঢুকিয়ে দিয়েছে ।  তবুও বাংলার মানুষের শক্তিকে উনারা দুর্বল করতে পারবেন না বলে সুজন বাবু মন্তব্য করেছেন । 

শনিবার পূর্ববর্ধমানের মেমারির নতুন বাসস্ট্যাণ্ডে  জনসভায় সুজন চক্রবর্তী বলেন , তৃণমূলকে ঠেকানোর জন্য বিজেপিকে ভোট দেওয়া মানে আপনি যাদের কারণে তৃণমূলের উপরে ক্ষুব্ধ তাদের হাত শক্ত করা । নব্বই ভাগ তৃণমূল হয়ে যাওয়া বিজেপিকে সমর্থন দেওয়ার কোন কারণ নেই । বিজেপিকে ঠেকানোর জন্য তৃণমূলের যাকে আপনি জেতাবের তিনি ভোটের রেজাল্ট বের হবার পর ৪৮ ঘন্টা যেতে না যেতে বিজেপি হয়েযাবে । তই বিজেমূল কে ঠেকাতে মানুষের ঐক্যবদ্ধ প্রয়াসের কোন বিকল্প নেই । বিকল্প হতে পারে না । সুজন বাবু প্রশ্ন তোলেন তৃণমূলকে সত্যি কি বিজেপি হারাতে চায় !
যদি সত্যি বিজেপি তৃণমূলকে হারাতো চাইতো তাহলে নরেন্দ্র মোদী, অমিত শাহ , দিলীপ ঘোষ , কিচ্ছু লাগতো না । চিটফান্ড কাণ্ডে দিল্লির সরকার যদি সিবিআইকে তদন্তটা ঠিকঠাক করতে দিত ,তাহলে চিটফাণ্ড কাণ্ডের সবথেকে সবথেকে বড় বেনিফিসিয়ারি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও তাঁর বাঁ দিকে- ডানদিকে যারা আছে সবাই  নবান্নর ১৪ তলা থেকে পালিয়ে যেত ।  ওদের টিকে থাকার আর সুযোগ থাকতো না  ।বিজেপি চায়নি তৃণমূল চলে যাক। কারণ তৃণমূল থাকলে বিজেপির লাভ ।  এদের জন্য বাম কংগ্রেস সবাই রুখে দাঁড়াচ্ছে দেখে মোদী ও মমতা এখন ভয় পেয়ে গিয়েছেন । বাংলার মানুষের চোখ বদলে গিয়েছে । এবারের ভোটো বাংলার মানুষ তৃণমূল ও বিজেপি উভয়কেই যোগ্য জবাব দেওয়ার জন্য তৈরি হয়ে রয়েছে ।

Post a comment

0 Comments