Subscribe Us

দেবতাদের হোলি আর আমজনতার দোল একদিনে নয়,রাজার আমলের এই প্রথা আজও মেনে চলা হয় বর্ধমানে


দেবতাদের হোলি আর আমজনতার দোল একদিনে নয়। রাজার আমলের এই প্রথা আজও মেনে চলা হয় বর্ধমানে। সেই মোতাবেক রবিবার গোটা রাজ্যে হোলি খেলা হলেও সোমবার আমজনতার হোলি হবে বর্ধমানে। এই চলনের পিছনে লুকিয়ে আছে একটা ইতিহাস। সেই ইতিহাসের সঙ্গে জড়িয়ে আছে বর্ধমান রাজবাড়ি।
বর্ধমান রাজাদের ঠাকুরবাড়ি লক্ষ্মীনারায়ণ জিউ মন্দির। এখন কালের নিয়মে ভগ্নপ্রায়। এখানকার বর্তমান সেবায়েত বর্তমান রাজপরিবারের বংশধর ডঃ  প্রণয়চাঁদ মহতাব। উনিই এখন সবকিছু দেখভাল করেন। বর্ধমানের কয়েকশো বছরের সঙ্গে জড়িয়ে আছে রাজবাড়ির প্রভাব। একসময় জাঁকজমকপূর্ণ ভাবে বৈভবের সঙ্গে লক্ষীনারায়ণ জিউ মন্দিরে দেবতাদের হোলি খেলা হত। রাজারা মনে করতেন যেদিন দেবতারা হোলি খেলবেন সেদিন প্রজারা খেলবেন না। তাই তখন থেকেই পরের দিনে দোলে মাততো বর্ধমান।  রাজ আমলের অবসান হলেও বর্ধমানের সাধারণ মানুষ কিন্তু এই একটি সাবেক প্রথাকে অবিচল নিষ্ঠায় ধরে রেখেছেন। লক্ষ্মীনারায়ণ জিউ মন্দির এখন জীর্ণ হলেও এখানে রথযাত্রা; দুর্গাপুজো ও দোল উৎসব হয়। আগের মত জাঁকজমক না হলেও সন্ধ্যায় ঠাকুরের রঙ খেলা হয়। আবির ছড়িয়ে হয় হোলি। ঠাকুরকে এদিন মালপোয়া ভোগ দেওয়া হয়। এখানকার পুরোহিত উত্তম মিশ্র জানান; এবারেও সন্ধ্যায় দর্শনার্থীরা আসবেন। হবে ঠাকুরের দোল। তবে সবটাই হবে কোভিড বিধি মেনে। মাস্ক পড়ে আসতে হবে। আর ব্যবহার করা হবে স্যানিটাইজার।
গত বছর কোভিড আবহের মধ্যে লক্ষ্মীনারায়ণ জিউ মন্দিরে দোল উৎসব প্রায় বন্ধ ছিল।নমো নমো করে নিয়ম মেনে শুধুমাত্র পুজো হয়েছিল।এবার পুজো হচ্ছে তবে সেই বাধা করোনা।

Post a Comment

0 Comments