Subscribe Us

গরিবদের জন্য কাজ করতে চায় কলিতা

পূর্ববর্ধমানের আউশগ্রাম বিধানসভা কেন্দ্রে বিজেপির প্রার্থী হয়েছে কলিতা মাঝি। তীব্র দারিদ্র্যের কারণে কলিতার  পড়াশোনা বেশিদূর হয়নি। প্রাথমিক স্কুলের গণ্ডি টপকানোর আগেই পড়াশোনা ছেড়ে দিতে হয়েছিল তাঁকে। বিয়ের পরেও দারিদ্র্য নিত্যসঙ্গী। স্বামী পাইপলাইনের মিস্ত্রি। তাতে সংসার চলে না। তাই কলিতা বাড়ি বাড়ি পরিচারিকার কাজ করেন। কিন্তু এবারের বিধানসভা ভোটে তিনিই প্রার্থী হয়েছেন। পূর্ব বর্ধমানের আউশগ্রাম বিধানসভা কেন্দ্রে(তফসিলি জাতি সংরক্ষিত আসন) বিজেপি প্রার্থী হিসাবে কলিতা মাঝির নাম ঘোষণা করা হয়েছে। 
গুসকরা পৌর এলাকার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা কলিতা মাঝি পরিচারিকার কাজ করেন। নাম ঘোষণার পরেই অবশ্য তিনি গৃহস্থবাড়িতে বলে এসেছেন," আমাকে মাস দেড়েক ছুটি দিতে হবে।কারণ ভোটের জন্য ব্যস্ত থাকতে হবে যে।তাই আমি এ'কটা দিন কাজে আসতে পারবো না।বৃহস্পতিবার বিকেলে  নাম ঘোষণার পরেই বিজেপি প্রার্থী কলিতা মাঝি সটান হাজির হন বিজেপির কার্যালয়ে। তাকে শুভেচ্ছা জানান দলের কর্মী সমর্থকরা। 
গুসকরা পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের মাঝপাড়ার বাসিন্দা কলিতা মাঝির স্বামী সুব্রত মাঝি জলের পাইপলাইনের মিস্ত্রির কাজ করেন। এক ছেলে পার্থ মাঝি অষ্টম শ্রেণীতে পড়ে। গুসকরা শহরের তিনটি বাড়িতে ঠিকাচুক্তিতে পরিচারিকার কাজ করেন কলিতা। ভোরের আলো ফুটতেই কাজে বেড়িয়ে যান।
মঙ্গলকোটের কাসেমনগরে বাপেরবাড়ি কলিতাদেবীর। বাবা মধূসুদনবাবু মারা গিয়েছেন। ৭ বোন এক ভাই। বাবা জনমজুরি করতেন। কলিতা মাঝি বলেন," টাকার অভাবে পড়াশোনা বেশিদূর করতে পারিনি। এই আফসোস সারাজীবন থাকবে।তবে ভোটে জিতলে আমি গরিব ছাত্রছাত্রীদের পড়াশোনার সুযোগ করে দিতে যথাসাধ্য চেষ্টা করবো।গরিব হওয়ার যন্ত্রণা আমি বুঝি।

Post a Comment

0 Comments