সরকারি নির্দেশ উপেক্ষা করে ভরা বর্ষায় প্রশাসনের নাকের ডগায় বালি তোলা হচ্ছে বহাল তবিয়তে

Subscribe Us

সরকারি নির্দেশ উপেক্ষা করে ভরা বর্ষায় প্রশাসনের নাকের ডগায় বালি তোলা হচ্ছে বহাল তবিয়তে

১৬ জুন থেকে নদী থেকে বালি তোলার উপর সরকারি ভাবে নির্দেশিকা জারি হয়েছে। ভরা বর্ষার মরশুমে নদী থেকে  বালি তোলা বন্ধ।তবুও বালি তোলা হচ্ছে বহাল তবিয়তে। প্রশাসনের নাকের ডগায় বালি মাফিয়ারা দিব্যি বালি তুলে পাচার করছে। পূর্ব বর্ধমানের গলসিতে বালি তোলা হচ্ছে রীতিমতো দিনের আলোতে।

এই খবর ছড়িয়ে পড়তেই টনক নড়ে প্রশাসনের। বালি ঘাটে অভিযানে যান গলসি ২ নম্বর ব্লকের ভূমি দপ্তরের দুই আধিকারিক। ভূমি দপ্তরের দুই আধিকারিকের সঙ্গে দেখা যায় একজন বালি ঘাটের মালিকেও।তিনি চারচাকা গাড়ি নিয়ে আধিকারিকদের সঙ্গে ঘোরেন এলাকার বিভিন্ন বালিঘাটে।এই ঘটনায় বির্তক উঠেছে। উঠেছে আধিকারিকদের নিয়ে প্রশ্ন।   

তবে ওই ঘাট মালিক নিজেকে একটি বালি ঘাটের ম্যানেজার বলে দাবী করেন। পাশাপাশি তিনি আরো দাবী করন তাদের ঘাট এখন বন্ধ আছে। তিনি অন্যঘাট থেকে বালি কিনে স্টক বা মজুত করছেন। তার সরকারী অনুমতি আছে। তিনি বলেন গলসির গোহগ্রামে তিনটি ঘাটে যন্ত্র দিয়ে বালি তোলা হচ্ছে । তার ঘাটে কোন যন্ত্র  চলেনি।  সেখান থেকে বালি কিনে মজুত করছেন। তাহলে এখানেই  স্পষ্ট যে গলসি গোহগ্রাম এলাকায় বালি ঘাট চলছে ও মজুত হচ্ছে। যা ভূমি দপ্তরের নজরে আসছে না।  

এদিকে অভিযানে এসে সরকারী অফিসাররা তো ওই ঘাট মালিককে সঙ্গে নিয়ে ঘুরছেন। তাহলে কি ব্লকের ভূমি দপ্তরের কেউ ওই কাজে মদত দিচ্ছে? নাকি তারা ওই কাজকে বৈধ্য বলে মনে করছেন?

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সকাল থেকেই এখানে ঘাট চলে। সরকারী গাড়ি আসার একটু আগে বন্ধ হয়েছে। ঘাটগুলির পারমিট এক জায়গায় আর নদীতে পঞ্চাশ ষাট ফুট নিচে পাইপ ঢুকিয়ে বালি কাটছে আর এক জায়গায়। এর জন্য নদীর বুকে বড় বড় গর্ত তৈরী হচ্ছে যাতে নদীর ভাঙন বেড়ে যাচ্ছে। এর জন্যই কয়েক বছর আগে  জলে ডুবে মারা যায় দু'জন কিশোর। নদীর বুকে বহু জায়গায় এখনও বড় বড় আট দশটি বালি তোলা মেশিন মজুত রয়েছে। রয়েছে বালি ছাঁকাই করার মেশিনও। 

পাশাপাশি বেশকিছু ডাম্পার গাড়ি দাঁড়িয়ে রয়েছে কয়েকটি জায়গায়। এলাকার ঘাট যদি বন্ধ আছে তাহলে কেন ওসব মেশিন ও গাড়ি নদীর বক্ষে রাখা আছে?  চোখের সামনে ওই সব দেখেও কেন ভূমি দপ্তর না দেখার ভান করছেন?  প্রশ্ন তুলেছেন এলাকার বাসিন্দারা। 

স্থানীয়রা  বলেন ঘাট চলছে। ঘাট মালিকও বলছেন ঘাট চলছে সেখানে নীরব কেন ব্লক ভূমি দপ্তর। কেনইবা পর্যবেক্ষণ করে কোন ব্যবস্থা না নিয়ে চলে গেলেন এমনই প্রশ্ন সাধারণ মানুষের। অভিযানে আসা সরকারী আধিকারিক রফিকুল ইসলাম ও অর্ণব চ্যাটার্জীকে বারবার প্রশ্ন করা হলে তারা কিছু বলতে অস্বীকার করেন।

এই বিষয়ে জেলাশাসক প্রিয়াঙ্কা সিংলা বলেন, প্রশাসন তদন্ত করে দেখছে।প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।

Post a Comment

0 Comments

close