বনদফতরের অনুমতি ছাড়াই গাছ কেটে বিক্রী করে দেওয়ার অভিযোগ উঠলো গ্রাম পঞ্চায়েতের বিরুদ্ধে

Subscribe Us

বনদফতরের অনুমতি ছাড়াই গাছ কেটে বিক্রী করে দেওয়ার অভিযোগ উঠলো গ্রাম পঞ্চায়েতের বিরুদ্ধে

রাস্তার ধারে থাকা লক্ষ লক্ষ টাকা মূল্যের গাছ কেটে বিক্রী করে দেওয়ার অভিযোগ উঠলো তৃণমূল পরিচালিত গ্রাম পঞ্চায়েতের বিরুদ্ধে। বনদফতরের অনুমতি ছাড়াই বেআইনি ভাবে গাছ কেটে পাচার করে দেওয়ার অভিযোগে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে পূর্ব বর্ধমানের জামালপুরে । গাছ কাটার ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত ও ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহনের দাবি জানিয়ে পঞ্চায়েতের সদস্যের একাংশ, বিডিও,পঞ্চায়েত প্রধান সহ জেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে চিঠি পাঠিয়েছেন। অভিযোগ পাওয়ার পরেই নড়ে চড়ে বসেছেন প্রশাসনের কর্তারা । 

জামালপুর ২ পঞ্চায়েতের চারজন সদস্য প্রশাসনিক দপ্তরে  জানান ,রাস্তার দু'ধারে অনেক প্রকাণ্ড গাছ রয়েছে ।সেই সব গাছ কাটার জন্যে বন দপ্তর ও পূর্ত দপ্তরের  কাছ থেকে লিখিত কোনও অনুমতিও নেওয়া হয়নি। গাছ কেটে বিক্রি সংক্রান্ত কোন টেণ্ডারও পঞ্চায়েত করে নি ।অথচ বিগত ৪- ৫ দিনে  রাস্তার দু'ধারে থাকা প্রকাণ্ড ও মূল্যবান প্রায় ৩০-৪০ টি গাছ কেটে পাচার করে দেওয়া হয়েছে বলে পঞ্চায়েত সদস্যরা অভিযোগ করেছেন। ঘটনায় জড়িত সকলের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহনের দাবিও প্রশাসনের কাছে জানিয়েছেন জামালপুর ২ পঞ্চায়েতের  সদস্যরা । 

তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা প্রদীপ পাল বলেন ,পঞ্চায়েত সদস্যদের অভিযোগ যুক্তি সংগত ।এই বিষয়ে প্রদীপ পাল বলেন ,পূর্ত দপ্তরের সড়ক পথের ধারে থাকা গাছ কাটার ব্যাপারে জামালপুর  ২ পঞ্চায়েত কোন নিয়ম কানুন মানার তোয়াক্কা করে নি ।

যারা এই কাজে যুক্ত রয়েছে তাদের সবার শাস্তি হওয়া দরকার। প্রদীপ পাল আরও বলেন, 'সরকার স্বচ্ছ ভাবে পঞ্চায়েত চালানোর কথা বলেলেও জামালপুর ২ গ্রাম পঞ্চায়েত দুর্নীতির আখড়া হয়ে উঠেছে। নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের অন্ধকারে রেখে পঞ্চায়েতের পরিচালনাধীনে বেআইনি কাজ কর্ম হচ্ছে ।তার প্রতিবাদ স্বরূপ মঙ্গলবার জামালপুর ২ পঞ্চায়েতে ডেপুটেশন জমা দেওয়ার কর্মসূচীও নেওয়া হয়েছে বলে প্রদীপ পাল জানিয়েছেন।' 

সদস্যদের আনা অভিযোগ প্রসঙ্গে জামালপুর ২ পঞ্চায়েতের উপ-প্রধান উদয় দাস বলেন ,'পঞ্চায়েতের ওই এলাকায় ৩৪ টি গাছ কাটার ব্যাপারে চলতি ’জুন’ মাসের ১১ তারিখে একটি ’রেজোলিউশন’ হয়। কিন্তু গাছকাটা সংক্রান্ত সব ’প্রসিডিওর’ মানতে না পারার কারনে সেই ব্যাপারে আর এগুনো  হয়নি ।তবে ওই গাছ গুলির পাহারাদার অর্থাৎ পাট্টাদার নিমাই মালিক নিজে দায়িত্ব নিয়ে গাছগুলি সম্প্রতি  কেটেছেন ।গাছ কেটে বিক্রি করে নিমাই বাবু ৩৫ হাজার টাকা এদিন পঞ্চায়েত অফিসে  জমা দিয়ে গিয়েছেন বলে উদয় দাস জানান । 

কিন্তু পঞ্চায়েত সহ অন্য সমস্ত সংশ্লিষ্ট দপ্তরের লিখিত অনুমতি না নিয়ে একজন পাহারাদার কিভাবে পূর্ত দপ্তরের সড়কপথের ধারে থাকা গাছগুলি কেটে বিক্রী করলেন তার কোনও উত্তর উপ- প্রধান  দিতে পারেন নি । বেআইনি ভাবে গাছ কেটে বিক্রি করার অর্থ পঞ্চায়েত কেন গ্রহন করলো ? এর উত্তর উপ- প্রধান সঠিক ভাবে দিতে পারেন নি।

বিজেপির জামালপুর বিধানসভার আহ্বায়ক জীতেন ডকাল বলেন ,' যেসব গাছ কেটে বিক্রি করা হয়েছে তার মূল্য বেশ কয়েক লক্ষ টাকা হবে । অথচ বলা হচ্ছে ওই সব গাছের মূল্য নাকি মাত্র ৩৫ হাজার টাকা। আসলে পুরোটাই একটা ’ঘোটালা’ । ঘোটালায় মদত না থাকলে বেআইনি ভাবে গাছ কেটে বিক্রি করার অর্থ পঞ্চায়েত গ্রহন করতো না। আর এখন  উপ- প্রধান বলছেন তিনি নাকি কিছুই জানেন না ।

জামালপুর ব্লকের বিডিও শুভঙ্কর মজুমদার বলেন,'তিনি অভিযোগ পত্র পেয়েছেন । অভিযোগের তদন্ত করার জন্যে পুলিশকে বলা হয়েছে । গাছ কাটার বিষয়ে কোন অনিয়ম থাকলে আইন মাফিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।'

Post a Comment

0 Comments