গাছ বিতর্কে আবার নতুন মোড়, চাঞ্চল্যকর অভিযোগ বর্ধমান মিউনিসিপ্যাল স্কুলের প্রাথমিক বিভাগের প্রধান শিক্ষকের

Subscribe Us

গাছ বিতর্কে আবার নতুন মোড়, চাঞ্চল্যকর অভিযোগ বর্ধমান মিউনিসিপ্যাল স্কুলের প্রাথমিক বিভাগের প্রধান শিক্ষকের

প্রতিনিধি,বর্ধমান:- বর্ধমান মিউনিসিপ্যাল স্কুলের প্রাথমিক বিভাগের প্রধান শিক্ষক বিশ্বজিৎ পাল আজ আবার এক চাঞ্চল্যকর অভিযোগ করলেন। তার দাবি, তার প্রাণনাশের চেষ্টা হতে পারে। এই মর্মে আজ আবার বর্ধমান থানায় অভিযোগ করেছেন তিনি। বর্ধমান মিউনিসিপ্যাল হাইস্কুলের প্রধানশিক্ষক শম্ভুনাথ চক্রবর্তী এই অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে বলেছেন , উনি স্কুলকে ভাগ করার জন্য এই ধরণের অবান্তর অভিযোগ করেছেন।

গাছের মৃত্যু রহস্যজনক দাবি করে থানায় অভিযোগ করেছিলেন প্রাথমিকের প্রধানশিক্ষক।গতকাল তার বিরুদ্ধেই পালটা থানায় অভিযোগ করেছিলেন হাইস্কুলের প্রধানশিক্ষক।গাছের মৃত্যু নিয়ে ব্যাপক চাপানউতোর চলছে বর্ধমান মিউনিসিপ্যাল  স্কুলে।সেই বিতর্ক স্কুলের জায়গা,এক্তিয়ার থেকে টাকাপয়সার হিসাব সবই চলে আসছে।

বর্ধমান শহরের টাউন হলের উল্টোদিকেই রয়েছে মিউনিসিপ্যাল  স্কুল।এটি শহরের সবচেয়ে নামী স্কুল। এই স্কুলের হাইস্কুলের সঙ্গেই চলে প্রাথমিক বিদ্যালয়।স্কুল সূত্রে জানা গেছে, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পৃথক প্রধান শিক্ষক সহ শিক্ষকমন্ডলী থাকলেও আদতে স্কুলটি হাইস্কুলের সঙ্গেই বহুদিন থেকেই সংযুক্ত। ঘটনার সুত্রপাত, বৃহস্পতিবার বর্ধমান মিউনিসিপ্যাল হাইস্কুলের একটি প্রাচীন শিরিষ গাছের মৃত্যু নিয়ে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বিশ্বজিৎ পাল বর্ধমান থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। তিনি দাবি করেন, গাছটিকে কে বা কারা মেরে ফেলেছে। এই বিষয়ে উপযুক্ত তদন্তের দাবিও করেন তিনি।  অভিযোগ পেয়ে পুলিশও স্কুলে এসে তদন্ত শুরু করে।

অন্যদিকে গতকাল বর্ধমান মিউনিসিপ্যাল  হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক শম্ভুনাথ চক্রবর্তী  পাল্টা প্রাথমিক বিভাগের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ করেন। শম্ভুনাথবাবু দাবী করেন, প্রাথমিক বিভাগের কোনও সম্পত্তি স্কুলে নেই। প্রায় সমস্তটাই হাইস্কুলের। তাই যদি কোনও গাছের ক্ষতি হয়ে থাকে সেটা উনি তাদের জানাতে পারতেন। তা না করে, বিশ্বজিৎবাবু নিজের এক্তিয়ারের বাইরে গিয়ে থানায় অভিযোগ করেছেন। একইসঙ্গে স্কুলে পুলিশ ডেকে সুনাম নষ্ট করেছেন। তাঁর আরও দাবি, গাছের মৃত্যু নিয়ে কোন সংশয় থাকলে সেটা বনদপ্তরে জানানো যেত। পুলিশে জানানোর কোন দরকার ছিল না।

শুধু প্রধান শিক্ষক নয়,এই বিষয়ে সরব হয়েছেন প্রাক্তনীরাও। ফেসবুকে স্কুলের কিছু প্রাক্তন ছাত্র প্রাথমিক বিভাগের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে তোপ দেগেছেন। তাদের মতে, গাছটির স্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে। এবং স্কুলে পুলিশ ডাকা ঠিক হয়নি।    

আজ প্রাথমিকের প্রধানশিক্ষক বিশ্বজিৎ আবার দাবি করেন তার প্রাণসংশয় হতে পারে। তার দাবি, প্রাথমিকের এক শিক্ষক তার দিকে তেড়ে যান।তার মোবাইল কেড়ে নেওয়া হয়। এর পিছনে হাইস্কুলের প্রধানশিক্ষকের ইন্ধন আছে বলে তার সন্দেহ।তার আরো অভিযোগ , তিনি স্কুলের ফান্ডের হিসাব দেখতে চেয়েছেন বলেই তাকে অসুবিধার মধ্যে পড়তে হচ্ছে।

অন্যদিকে হাইস্কুলের প্রধানশিক্ষক শম্ভুনাথ চক্রবর্তী বলেন,এ অভিযোগ একশো শতাংশের বেশি অমূলক।তিনি আজ দেরিতে স্কুলে এসেছেন। এমনকি ওইদিকেও তিনি যাননি। ওই শিক্ষকের সাথে তার চারমাস বাক্যালাপ নেই।তার পালটা দাবি, ঐতিহ্যশালী এই স্কুলে দীর্ঘদিন প্রাথমিক ও উচ্চ-মাধ্যমিক একসাথে চলে আসছে। ওই শিক্ষক এসে স্কুলের বিভাজনের জন্য উঠেপড়ে লেগেছেন।

গাছের মৃত্যু স্বাভাবিক না অস্বাভাবিক তা প্রমাণসাপেক্ষ। কিন্তু এই নিয়ে দু পক্ষের চাপান-উতোর চলছে। আর আজ একদিকে ' প্রাণসংশয়ের ' অন্যদিকে 'স্কুলকে ভাগ করার চেষ্টা' র অভিযোগও যথেষ্ট নতুন এ নিয়ে কোনোও সন্দেহ নেই।

Post a Comment

0 Comments

close