পায়রার জন্য পাকা ঘর, তাও আবার শতাধিক বছরের প্রাচীন,এমন পায়রার ঘর যা সম্ভবত পশ্চিম বর্ধমানে আর কোথাও নেই

Subscribe Us

পায়রার জন্য পাকা ঘর, তাও আবার শতাধিক বছরের প্রাচীন,এমন পায়রার ঘর যা সম্ভবত পশ্চিম বর্ধমানে আর কোথাও নেই

তনুশ্রী চৌধুরী,কাঁকসা:- পায়রার জন্য পাকা ঘর । তাও আবার শতাধিক বছরের প্রাচীন । সময়ে সময়ে সংস্কার করা হয় । তাও আজও রয়ে গিয়েছে ঝকঝকে তকতকে । বিশাল থাম্বার উপরে রয়েছে পায়রার বাড়ি, ছাদ টিনের । ৫০০র বেশি পায়রা থাকে এখানে । প্রতিদিন খাবার হিসাবে লাগে কমপক্ষে  ৩ কেজি ধান , মাসে ৯০ কেজি ধান । এভাবেই এখনো গোপালপুরের বনেদি সাহা পরিবারে পায়রা পোষা হয় এবং যত্ন করা হয় । 

আনুমানিক ১১০ বছর আগে এই পায়রা ঘর নির্মাণ করা হয়েছিল । করেছিলেন ৭৪ বছরের অবসর প্রাপ্ত শিক্ষক শিব দাস সাহার পিতা বিজয় কুমার সাহা । বিজয় বাবু ছিলেন বেঙ্গল জুট মিলের কর্মী । তবে চাষের জমির উপরে তার ভিষণ আকর্ষণ  ছিল । ধান জমি কেনার তার বড় নেশা ছিল । ধান জমি কিনেছিলেন প্রচুর পরিমানে । 

বনেদি পরিবারের ছেলে বিজয় বাবু মনে করতেন দেবী লক্ষ্মীর বাহন পায়রা। পায়রাকে যত্ন করে বাড়িতে রাখলে ঘরে থাকবেন সম্পদের দেবী । তিনি পায়রা পোষেন । সাধারন পায়রা থেকে ভাল জাতের পায়রা সবই তিনি পোষেন সেসময় । একে একে বাড়ে পায়রার সংখ্যা । এক সময় তিনি সিদ্ধান্ত নেন সম্পদের দেবীর জন্য চাই পাকা ঘর । নির্মাণ করান তিনি 'কবুতর নিবাস' অর্থাৎ পায়রার জন্য পাকা ঘর। বিড়াল বা সাপে যাতে আক্রমণ করতে না পারে তার জন্য পায়রার ঘর উঁচু আর বিশাল পিলারের উপর স্থাপন করা হয় । 

অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক ৭৪ বছরের শিবদাস  সাহা বলেন তিনি জন্ম থেকেই দেখছেন এই পায়রার ঘর ।তিনি বলেন 'বাবা মনে করতেন দেবী লক্ষী সেখানে থাকবেন যেখানে তার বাহন পায়রা যত্ন পাবে । সেই থেকেই বাড়িতে রয়ে গিয়েছে পায়রা এবং আজও যত্ন করে পায়রার দেখভাল করা । রয়েছে প্রায় ৫০০ টি পায়রা'। গোপালপুরের বনেদি সাহা পরিবারের এমন পায়রার ঘর যা সম্ভবত পশ্চিম বর্ধমানে আর কোথাও নেই ।

Post a Comment

0 Comments

close