কখনও পুলিশ অফিসার তো কখনও সিবিআই সেজে প্রতারণা ! অবশেষে পুলিশের জালে মুন্না

Subscribe Us

কখনও পুলিশ অফিসার তো কখনও সিবিআই সেজে প্রতারণা ! অবশেষে পুলিশের জালে মুন্না

নীলেশ দাস আসানসোল:- জাল সিমকার্ড, ভুয়া প্রেস কার্ড,জাল পুলিশ পরিচয়পত্র, ভুয়া মানবাধিকার সংস্থার আইডি এবং লোগো নিয়ে জনগণ ও পুলিশের চোখে ধুলো দিয়ে চাকরি দেওয়ার নাম করে কয়েক লক্ষ্য টাকার প্রতারণা অভিযোগ উঠল মুন্না ডোম ওরফে এম কে সিং এর বিরুদ্ধে। যাকে আটক করে জামতাড়া পুলিশ, তবে চিত্তরঞ্জন থানার পুলিশ দুমকা আদালতে ৬ দিনের পুলিশী হেফাজতের আবেদন জানান অভিযুক্তর জন্যে। 

জানা যায়  চিত্তরঞ্জন থানা এলাকায় বিভিন্ন সাইকেল চুরির বিষয়ে এবং সরকারি চাকরি দেওয়ার নামে লোকজন এর কাছে বহু টাকা প্রতারণা করেছে সেইসব জিজ্ঞাসাবাদ করছে চিত্তরঞ্জন থানার পুলিশ।মুন্না ডোম প্রায় সাত বছর ধরে চিত্তরঞ্জনের বেস রোড এলাকায় বসবাস করে, চিত্তরঞ্জন ও মিহিজামের লোকদের প্রতারণা করে চলেছে বলে অভিযোগ। পরে সেই পরিবার মিহিজাম হাসি পাহাড়ি এলাকায় বসবাস শুরু করে।  

অভিযুক্ত দীর্ঘদিন চিত্তরঞ্জন শ্মশান ঘাটে ডোমের ভূমিকা পালন করতো।এরই মধ্যে, তিনি একটি জাল পরিচয় তৈরি করে নিজেকে বাঁচাতে প্রেস কার্ড ব্যবহার করতে শুরু করে এবং পুলিশ ও আরপিএফ জওয়ানদের কাছ থেকেও তোলাবাজি করার অভিযোগ ওঠে। অবশেষে ওই ব্যক্তি জাল চাকরি দেওয়ার গোষ্ঠীর সাথে হাত মিলিয়ে অনেকের কাছ থেকে চাকরি দেওয়ার নামে প্রায় ৭ লক্ষ টাকা প্রতারণা করেন বলে অভিযোগ। 

এছাড়াও ভুয়ো সিবিআই অফিসার হওয়ার ভান করে দোকান থেকে জিনিসপত্র নিয়েও পালিয়ে যেত বলে অভিযোগ। এখনও অব্দি তিনি লক্ষ লক্ষ টাকার সম্পদ ও বিলাস বহুল জীবন যাপন করছিলেন।  কিন্তু এই বিলাসবহুল জীবন বেশিদিন আর টিকলনা ২০২১ এর ৩১সে মে  গ্রামবাসীদের হাতে ধরা পড়ে এবং  তাকে ধরে এবং দুমকার মাসালিয়া থানায় পুলিশের হাতে  তুলে দেওয়া হয়।কারন ওই গ্রামে মুন্না ডোম নিজের স্ত্রীর স্কুটিতে একটি পুলিশ লোগো লাগিয়ে ভুয়ো ম্যাজিস্ট্রেট হিসাবে পরিচয় দিয়ে পথে ঘাটে গাড়ী চেকিং ও দোকান থেকে অবৈধ অর্থ আদায় করছিল। 

কিন্তু মুন্নার এই কার্যকলাপ কিছুদিন ধরে গ্রামবাসীদের সন্দেহ হয়, তখন গ্রামের লোকেরা প্রথমে মুন্নাকে ধরে গ্রামে বেঁধে রাখে এবং পরে পুলিশে খবর দেয়। তদন্তে পুলিশ মুন্নার কাছ থেকে সিবিআই, পুলিশ, প্রেস সহ অনেক জাল আইডি উদ্ধার করেছে। এর পরে পুলিশ তাকে আটক করে ।এই ঘটনার পরেই চিত্তরঞ্জন পুলিশও মুন্নার সন্ধানে মাসালিয়ায় পৌঁছে তদন্ত করে। এর পরে মুন্নাকে দুমকা আদালত থেকে পুলিশী হেফাজতে নেওয়া হয়।  

অন্যদিকে চিত্তরঞ্জনের ৭৯ নম্বর সিমজুড়ি রাস্তার বাসিন্দা প্রিয়া কুমারী আসনসোল সিজিএম আদালতে মুন্না ডোমের বিরুদ্ধে ১৫ লক্ষ টাকার জালিয়াতির অভিযোগে মামলা করেন। এই ঘটনায় পুলিশ মুন্নাকে হেফাজতে নিয়েছে। পাশাপাশি আমলাদহী বাজার থেকে হরজিৎ সিংয়ের মোবাইল দোকান থেকে ২৫,০০০ টাকার মোবাইল কিনে নকল চেক বাউন্সের একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। 

অন্যদিকে চিত্তরঞ্জন আরসাইডের বাসিন্দা শালিনী শর্মাকে রেলে চাকরী দেওয়ার নামে ১০ লক্ষ টাকার প্রতারণা করার অভিযোগও রয়েছে। এর পাশাপাশি তিনি মিহিজাম, মুঙ্গের, জম্মু, ধনবাদ থেকেও একাধিক লোককে প্রতারনার শিকার করেছে মুন্না। চিত্তরঞ্জন থানার আধিকারিক অতীন্দ্র নাথ জানিয়েছেন যে মুন্নাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে, তিনি বহু মামলায় জড়িত রয়েছেন।

Post a Comment

0 Comments

close