Subscribe Us

আজও আদিবাসীরা পুজোর চার দিন তাঁদের প্রিয় হুদুর দুর্গাকে খুঁজে বেড়ান গ্রাম গ্রামান্তরে

চারিদিকে যখন অসুরদলনী মা দুর্গা বন্দনায় মুখর গোটা দেশ, সেই সময় খোদ আদিবাসী সমাজে ধীরে ধীরে বাড়ছে অসুর পুজো। রবিবার বর্ধমান টাউন হল থেকে শুরু হল দাঁশাই নাচের। উদ্বোধন করলেন রাজ্য তৃণমূল আদিবাসী শাখার সভাপতি দেবু টুডু।

তিনি জানিয়েছেন, ধীরে ধীরে আদিবাসী সমাজে পশ্চিমী সভ্যতার জেরে আদিবাসী সমাজেও ঢুকে পড়েছে ডিজে, আধুনিক সংস্কৃতি। ক্রমশই হারিয়ে যাচ্ছে আদিবাসী সমাজের নিজস্ব কৃষ্টি, সংস্কৃতি। তাকে বাঁচিয়ে রাখতে এবং ভবিষ্যত প্রজন্মের কাছে আদিবাসী এই অনাদিকাল ধরে চলে আসা সংস্কৃতিকে বাঁচিয়ে রাখতেই  সূচনা করা হল দাঁশাই নাচের। গোটা জেলা জুড়ে এই দাঁশাই নাচের টিম ঘুরবে।

উল্লেখ্য, আদিবাসী সমাজ বিশ্বাস করে, আর্য ও অনার্যদের মধ্যে যে যুদ্ধ হয়েছিল সেই যুদ্ধের পর নিখোঁজ হয়ে যায় অনার্য জাতির রাজা হুদুর দুর্গা। দুর্গাপুজোর এই চারদিন ধরে দাঁশাই নাচের মধ্যে দিয়েই তাই খুঁজে বেড়ানো হয় সেই রাজাকে। 

তাঁদের বিশ্বাস এখনও বেঁচে আছেন, কোথাও লুকিয়ে রয়েছেন হুদুর দুর্গা। আর তাঁকে খুঁজে পেতেই পুরুষেরা মহিলার বেশে খুঁজে বেড়ান গ্রামের পর গ্রাম তাঁদের প্রিয় রাজা হুদুড় দুর্গাকে। অনেকেই মনে করেন হুদুর দুর্গা হল সাঁওতাল জনগোষ্ঠীর উপাস্য দেবতা এবং তাকেই হিন্দুধর্মে মহিষাসুর হিসাবে দেখানো হয়েছে। 

এদিন বর্ধমানের জাহের থানের মোড়ল লসো হেমব্রম জানিয়েছেন, আদিবাসীরা কেউই দুর্গার পুজো করেন না। করতেও পারেন না। তাঁরা দুর্গা নয় মহিষাসুরকেই তাঁদের দেবতা হিসাবে দেখেন। তাই কেউ কেউ গড্ডালিকা প্রবাহে গা ভাসানোর মত দুর্গাপুজোয় জড়িত হলেও তাঁরা মনেপ্রাণে জড়ান না।

Post a Comment

0 Comments