Subscribe Us

জঙ্গলের মধ্যে একেবারে সাদামাটা এই দুর্গাপুজোর আকর্ষণ মানুষের কাছে আর পাঁচটা পুজোর থেকে অনেকাংশে বেশি

শুভময় পাত্র, বীরভূম:- হীরালিনী দুর্গোৎসব, অনেকে আবার সোনাঝুরির আদিবাসী পরিচালিত দুর্গাপুজোও বলে থাকেন ৷ ২১ বছরের পুরোনো এই পুজোর আকর্ষণ আর পাঁচটা পুজোর থেকে অনেকাংশে বেশি । ছিমছাম মণ্ডপের প্রতিটি কোনায় রয়েছে শিল্পের অসাধারণ নিদর্শন ৷ দশাবতার থেকে শুরু করে বিভিন্ন কাঠের কারুকার্য ৷ তবে সবটাই ভীষণ সাধারণ, সাদামাটা ৷

২০০১ সালে শান্তিনিকেতনের সোনাঝুরি জঙ্গলে শৈল্পিক দুর্গাপূজার সূচনা করেন প্রয়াত শিল্পী বাঁধন দাস। তাঁর অবর্তমানে এখন তাঁরই ছাত্র শিল্পী আশিস ঘোষের হাত ধরে স্থানীয় আদিবাসী সম্প্রদায়ের মানুষজন এই পুজোর আয়োজন করে থাকেন । আর পাঁচটা পুজোর মতো এই পুজোয় নেই কোনও আদি রীতি রেওয়াজ ।

নেই আকর্ষণীয় জাঁকজমক মণ্ডপ । হয় না প্রথা মেনে পুজো । এখানে শুধুই রয়েছে শিল্পের ছোঁয়া । আর তাই অন্যান্য পুজোর থেকে সোনাঝুরি জঙ্গলের একেবারে সাদামাটা হীরালিনী দুর্গাপুজোর আকর্ষণ মানুষজনের কাছে অনেক বেশি । 

শান্তিনিকেতন সংলগ্ন সোনাঝুরির এই জঙ্গল লাগোয়া রয়েছে আদিবাসী অধ্যুষিত একাধিক গ্রাম ৷ বনেরপুকুর ডাঙা, ফুলডাঙা, বল্লভপুর ডাঙা ও সরকার ডাঙা নামে প্রভৃতি গ্রামের আদিবাসী মানুষজনই এই পুজোর সমস্ত আয়োজন করে থাকেন । পুজোর চারদিন আদিবাসী নৃত্য ও স্থানীয় সংস্কৃতির বিভিন্ন অনুষ্ঠান হয় ।

২০০১ সালে পুজো শুরু করার সময় দেবীর হাতে অস্ত্র থাকলেও, ২০০২ সালে আমেরিকায় ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারে বিস্ফোরণে বিশ্বজুড়ে সন্ত্রাসের নগ্ন রূপ বেরিয়ে আসে । তাই সেই বছর থেকে বিশ্ব শান্তির বার্তা দিতে শিল্পী বাঁধন দাস দেবীর হাতে অস্ত্রের বদলে পদ্মফুল দেন । সে বছরই প্রয়াত হন তিনি । তারপর থেকে এই পুজোর হাল ধরেন তাঁরই ছাত্র শিল্পী আশিস ঘোষ । 

২০ বছর পেরিয়ে গেলেও এখনও এখানে মা দুর্গা ও তাঁর সন্তানদের হাতে অস্ত্রের বদলে পদ্মফুলই শোভা পায় ৷ এ বছর ফাইবার দিয়ে প্রতিমা নির্মাণ করা হয়েছে । মণ্ডপে কাঠ দিয়ে কারুকার্য করা হয়েছে । প্রতিমার চতুর্দিকে কাঠের নকশার দশাবতার শোভা পাচ্ছে । শুধু বোলপুর শান্তিনিকেতন নয়, রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে শান্তিনিকেতনের এই জঙ্গলে ঠাকুর দেখতে ভিড় করে বহু পর্যটক।

Post a Comment

0 Comments