Subscribe Us

আসানসোলের ধেনুয়া গ্রামে অনুষ্ঠিত হলো এক দিনের দুর্গা পুজো

নীলেশ দাস, আসানসোল:-পুজো আর মাত্র কয়েক দিনের অপেক্ষা। কিন্তু তার আগেই আসানসোলের বার্নপুরের রিভারসাইডের ধেনুয়া গ্রামে এক দিনেই দুর্গাপুজো অনুষ্ঠিত হলো।বুধবার মহালয়ার দিনে কালি কৃষ্ণ যোগাশ্রমে একদিনের দুর্গাপুজো হয়। এদিন নিয়মরীতি মেনেই দুর্গাপুজো করা হয়েছে। জানা গিয়েছে ১৯৭৮ সালে এই আশ্রমের মহারাজ তেজানন্দ ব্রহ্মচারী স্বপ্নাদেশ পেয়ে এই পুজোর সূচনা করেছিলেন। সেই থেকেই মহালয়ার দিনে এই পুজো হয়। এই পুজোর বৈশিষ্ট্য হল মা দুর্গার সঙ্গে গণেশ, কার্তিক, লক্ষী, স্বরসতী ও অসুর থাকে না।এখানে মা দুর্গার দুই সখী জয়া ও বিজয়া থাকে।

এক দিনেই ষষ্ঠী, সপ্তমী, অষ্টমী, নবমী ও দশমীর পুজো হয়। যদিও এবছর ধুমধাম সহকারে পুজো না হলেও একদিনের দুর্গাপুজো করা হয়েছে। এই এক দিনের দুর্গাপুজো দেখতে এই আশ্রমে বহু মানুষের সমাগমও হয়। সব মিলিয়ে পুজোর আগেই ধেনুয়া গ্রামে দুর্গাপুজো হয়ে গেল।

মন্দির কমিটির সম্পাদক সুবল চন্দ্র খা জানান, ১৯৭৭ সালে তেজানন্দ মহারাজ আসার পর ১৯৭৮ সালে স্বপ্নাদেশ পায় মহারাজ। মহালয়া দিনে পুজো করতে হবে। তবে অনেকেরই মতামত ছিলো সেইসময় যে মহালয়ায়  পুজো করা যায় কি? সেই সময় তেজানন্দ মহারাজ বলেছিলেন, যে আমি স্বপ্নাদেশ পেয়েছি,মায়ের পুজো করতে হবে। তবে মূর্তির কি হবে,দেবী প্রতিপদে আসবে। অসুর থাকবে না,কোনো সিংহ বাহিনী থাকবে না। 

শুধু মায়ের দুই সখি থাকবে জয়া ও বিজয়া,তবে মূর্তি দশ হাতের থাকবে। সেই থেকেই আজো চলে আসছে এই পুজো। একদিনেই ষষ্ঠী,সপ্তমী,অষ্টমী,নবমী,বিজয়া দশমী।বিকেলেই ঘট বিসর্জন হয়ে যায়। শুধু থেকে যায় মা দুর্গা এবং জয়া ও বিজয়ার মূর্তি। তবে এই করোনা পরিস্থিতে সেরকম ভাবে জাকজমক ভাবে পুজো হচ্ছে না। এখানে অনেক দূরদূরান্ত থেকে মানুষ আসে এই কালিকৃষ্ণ যোগাশ্রমে। তবে তার দাবি এখান থেকেই সূচনা হয়েছে মহালয়ায় পুজো।

এদিন আসানসোলের বার্নপুরের ধেনুয়া গ্রামে একদিনের দুর্গাপুজো দেখতে যান আসানসোল দক্ষিণ বিধানসভার বিজেপি বিধায়ক অগ্নিমিত্রা পল। পাশাপাশি কালী কৃষ্ণ আশ্রমের লোকজনদের সঙ্গে কথাও বলেন তিনি। এদিন মা দুর্গার দর্শন করে প্রণামও করেন তিনি। এই প্রসঙ্গে আসানসোল দক্ষিণ বিধানসভার বিজেপি বিধায়ক অগ্নিমিত্রা পল বলেন, এই মন্দিরটি যাতে প্রাধান্য দিয়ে উন্নয়ন করা হয় তার জন্য রাজ্য ও কেন্দ্র সরকারের কাছে আবেদন জানাবো বলে জানান। এর পাশাপাশি এখানকার রাস্তাটি খুব বেহাল দশা, সেটার জন্যও রাজ্য সরকারের কাছে আবেদন করবো বলে জানিয়েছেন তিনি।

Post a Comment

0 Comments