Subscribe Us

বীরভূমের তালতোড়ের জমিদারের স্ত্রী স্বপ্নাদেশ পেয়ে বাড়িতে দেবী দুর্গার আরাধনা সূচনা করেছিলেন ২৫০ বছর আগে


শুভময় পাত্র,বীরভূম:- বীরভূমের শান্তিনিকেতনের অনতিদূরেই অবস্থিত তালতোড় গ্রাম। এই গ্রামেই রয়েছে সুবিশাল তালতোড় জমিদার বাড়ি, বাড়ি সংলগ্ন ঠাকুরদালান ও খানিক দূরে কাছারি বাড়ি। তালতোড়ের এই জমিদারি ও দুর্গোৎসব প্রায় ২৫০ বছরের প্রাচীন। 

জানা যায়, তৎকালীন জমিদার লোটন ঘোষের জমিদারি ঝাড়খন্ডের পাকুড় পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল। জমিদার লোটন ঘোষের স্ত্রী স্বর্ণময়ী দেবী স্বপ্নাদেশ পেয়ে বাড়িতে দেবী দুর্গার আরাধনা সূচনা করেন। সেই থেকে আজও সমস্ত রীতি মেনে নিষ্ঠার সহিত একইভাবে দুর্গোৎসব পালন হয়ে আসছে। 

পুজোর সময় পরিবারের সকল সদস্যগণ তালতোড়ের এই পৈত্রিক বাড়ীতে একত্রিত হয়ে পুজোর আয়োজনে নিযুক্ত হয়ে থাকেন। রথ যাত্রার দিনে কাঠামো পুজার মধ্যে দিয়ে দুর্গোৎসবের সূচনা হয়। বাড়ি সংলগ্ন ঠাকুরদালানে দেবীপ্রতিমা নির্মিত হয়। 


এখানে দেবীর সাবেকি রূপ, একচালা বিশিষ্ট। দেবী মাটির অলংকারে সজ্জিতা ও চালচিত্র পৌরাণিক কাহিণীর চিত্রাঙ্কন দ্বারা শোভিত। 

প্রতিমা নিরঞ্জনের পর দেবীর মূল কাঠামো পুনরায় দালানে প্রত্যাবর্তন করা হয় এবং পরবর্তীতে সারা বছর প্রত্যহ সেই কাঠামো পুজো করা হয়ে থাকে। এই জমিদার বাড়ির আরেকটি অন্যতম বিশেষত্ব হলো, দুর্গোৎসবের পর লক্ষ্মীপুজোর দিনে দেবী লক্ষ্মী ও সরস্বতী একই কাঠামোতে একসঙ্গে পূজিত হয়ে থাকেন।


বীরভূমের তৎকালীন রায়পুর, সুরুল, তালতোড় সকল প্রভাবশালী জমিদারদের হাত ধরেই সেই সময় এই অঞ্চলের সাংস্কৃতিক, অর্থনৈতিক বিকাশ ঘটে। ১৯৫০ সালে জমিদারি প্রথা অবলুপ্তির পর ।

নতুন আইন অনুযায়ী ভূস্বামীদের অধিকৃত ২৪ একরের বেশী জমি রাখা অনুমিত না হওয়ার দরুণ, তালতোড়ের জমিদার শ্রী ভাদেশ্বর ঘোষ মহাশয় তাঁর বিপুল জমিদারীর অংশীভূত জমিজমা নিজ আত্মীয়পরিজন, 

বর্গাদার এবং জমিদারীর কাজে সাহায্যকারী মানুষজনের মধ্যে ভাগ করে দেন এবং অবশিষ্ট বহু জমিজমা নিঃশর্তে ও কোনোরূপ প্রচার ছাড়াই বিশ্বভারতীকে প্রদান করেন।

Post a Comment

0 Comments