Subscribe Us

এই বাড়ির দূর্গা 'বুড়ি মা' নামেই পরিচিত,৬০০ বছর আগে কাঁকসার গোপালপুরে এই পুজো শুরু হয়


তনুশ্রী চৌধুরী,কাঁকসা:- বাঁকুড়া জেলায় বাস করতেন জমিদার বৈকুন্ঠ রায় । সেখানে তার বাড়িতে ধুমধাম করে তখন দুর্গাপুজো হতো । জমিদার বাড়ি আলো করে ছিলেন পরমাসুন্দরী বছর ১২র মেয়ে বুড়ি । বুড়ি সেই অকাল বয়সেই না ফেরার দেশে চলে যান । জমিদার বৈকুণ্ঠ রায় মেয়ের শোকে প্রায় পাগল হয়ে যেতে বসেন । বন্ধ হয়ে যায় দেবী দুর্গার পুজো । দেবী স্বপ্নে এসে জমিদার বৈকুন্ঠ বাবুকে আদেশ দেন তাকে পুনরায় রায় বাড়িতে নিয়ে আসার জন্য । 

স্বপ্নাদেশ ছিল মেয়ে বুড়ির নামেই তাকে ডাকতে এবং তার ঘর আবার আগের মতোই সুখ আর শান্তিতে ভরে যাবে । রায় বাড়িতে বন্ধ হয়ে যাওয়া দুর্গাপুজো শুরু হয় ,পুনরায় মেয়ে বুড়ির নামে , দেবীকে সবাই ডাকতে থাকেন বুড়ি মা বলেই । বছর খানেকের মধ্যেই আর এক মেয়ের জন্ম হয় রায় পরিবারের । ইনিও ছিলেন পরমাসুন্দরী । বছর ১১ বয়স হতেই বৈকুণ্ঠ বাবু মেয়েকে পাত্রস্থ করেন।  

বাঁকুড়ার তাজপুরের নন্দলাল চট্টোপাধ্যায়ের সাথে মেয়ের বিয়ে দিয়ে তিনি ঘরজামাই করে রাখেন নন্দলাল বাবুকে । এরপরে নন্দলাল চট্টোপাধ্যায় তার শ্বশুর মহাশয়ের সাথে চলে আসেন গোপালপুরে । সেখানেই জমিদারি কিনে শুর করেন বুড়ি মায়ের পুজো । গোপালপুরে ১৬৫০ সালে শুরু হয় বুড়ি মায়ের পুজো । সম্রাট শাহজাহানের সময় কালের শেষে এবং সম্রাট ঔরঙ্গজেবের শাসনকালের শুরুতে গোপালপুরের শ্মশানঘাট বলে পরিচিত জমিতেই শুরু হয় বুড়ি মায়ের পুজো । 

৬০০ বছর আগে গোপালপুরে বুড়ি মায়ের পুজো শুরু হয় । ৫৫৫ গ্রামের মধ্যে গোপালপুর চট্টোপাধ্যায় পরিবারেই হয় সপ্তসতী হোম হয় । জানা গিয়েছে গোপালপুরের চট্টোপাধ্যায় পরিবারের সপ্তসতী হোম আর নাসিক গ্রামে হয় । এই হোমের সময় দেবীর কাছে মনের ইচ্ছা প্রার্থনার আকারে প্রকাশ করলে দেবী তা পূরণ করেন বলেই বিশ্বাস চট্টোপাধ্যায় পরিবারের। বোধনের দিন থেকেই শুরু হয় পুজো । এদিন পুজোর পরে সিন্দুর খেলাও হয় গৃহবধূদের মধ্যে। এমন কথা জানালেন পরিবারের অন্যতম সদস্য শান্তনু চট্টোপাধ্যায় । 

পরিবারের প্রবীণা গৃহবধূ ঝর্ণা চট্টোপাধ্যায় বলেন তাদের বুড়ি মায়ের বরণ হয় না । পুজোর সময় দুদিন মেয়েরা সিন্দুর খেলে । অষ্টমীর বলির পরে এবং বুড়ি মাকে বিদায় দেওয়ার সময় মেয়ে বৌ-রা সিন্দুর খেলে । দুর্গাপুর মহকুমার অন্যতম প্রাচীন এবং বিখ্যাত পুজো বুড়ি মায়ের পুজো ।

Post a Comment

0 Comments